রাতারাতি স্বস্তি উধাও হল পাকিস্তানে। ফিনানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স-এর (এফএটিএফ) নজরদারি তালিকায় পাকিস্তানের নাম ঢোকানো আটকে দেওয়া গিয়েছে বলে গতকালই ইসলামাবাদ জানিয়েছিল। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে আজ জানা গেল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছে এফএটিএফ। পাকিস্তানকে ‘গ্রে লিস্ট’ অর্থাৎ নজরদারি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এফএটিএফ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তা ঘোষণা করবে বলেও জানা গিয়েছে।

সন্ত্রাসে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে যে সব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, তাদের নামই গ্রে লিস্টে ঢোকায় এফএটিএফ। চিন, তুরস্ক এবং গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিলকে নিজেদের পক্ষে টেনে প্রাথমিক ভাবে  পাকিস্তান নিজেদের নাম এফএটিএফ-এর নজরদারি তালিকায় বা গ্রে লিস্টে তোলা আটকে দিয়েছিল। পাকিস্তানকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ, শুক্রবার রয়টার্স সূত্রে জানা গেল, পাকিস্তানের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বিফলে গিয়েছে। মার্কিন তৎপরতায় সিদ্ধান্ত বদলেছে চিন, তুরস্ক এবং গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল। গ্রে লিস্টে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবে যে আপত্তি তারা জানিয়েছিল, তা তারা প্রত্যাহার করেছে। ফলে এফএটিএফ কর্তৃপক্ষও অবস্থান বদলেছেন। পাকিস্তানকে গ্রে লিস্টে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগঠনের প্রধান, জানিয়েছে রয়টার্স। পাক প্রশাসন এবং এফএটিএফ সূত্রেই এই খবর মিলেছে বলে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে।

এফএটিএফ-এর এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি এ বার পাকিস্তানের সঙ্গে যে কোনও লেনদেনের বিষয়ে আরও সতর্ক হবে। পাকিস্তানি ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে আর্থিক আদান-প্রদান করতে অনীহা দেখাবে আন্তর্জাতিক মহল।

আরও পড়ুন: জঙ্গিয়ানায় মদত চলবে না, ট্রুডোকে পাশে রেখে বার্তা মোদীর

আরও পড়ুন: চিন ও রাশিয়ার বাধায় এ যাত্রা রক্ষা পাকিস্তানের

আফগানিস্তানে যারা সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তারা পাকিস্তানের মদতেই পুষ্ট বলে আমেরিকা বার বার অভিযোগ করছে। আফগান জঙ্গিদের সাহায্য করা যাতে পাকিস্তান বন্ধ করে, তা নিশ্চিত করতে আমেরিকা আরও অনেক রকম ভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছে পাকিস্তানকে। কিন্তু সন্ত্রাসে মদত বন্ধ হয়নি। এ বার তাই এফএটিএফ-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে পাকিস্তানকে আরও বড় চাপের মুখে ফেলতে তৎপর হয় আমেরিকা।

এর আগে ২০১২ সাল থেকে ১০১৫ সাল পর্যন্ত এফএটিএফ-এর গ্রে লিস্টেই ছিল পাকিস্তান। পরে পাকিস্তানের নাম সে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফের পাকিস্তানের নাম ঢুকে পড়ল সন্ত্রাসে মদতদাতা রাষ্ট্রগুলির তালিকায়।