প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটা সাদামাটা সাংবাদিক বৈঠক হতে চলেছে। ভুলটা ভাঙে পলকেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, বহু দিন পরে এমন মেজাজে দেখা গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

‘‘শ্বেতাঙ্গ মিছিলে বিক্ষোভের দায় দু’পক্ষেরই,’’ সটান এই মন্তব্য করে নিজের চেনা অবস্থানেই ফেরত গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট, এমনটাই দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের। ট্রাম্প বলেছেন, শার্লটসভিলের ওই মিছিলে যে অতি দক্ষিণরা স্বস্তিক চিহ্ন হাতে বর্ণবিদ্বেষী স্লোগান দিয়েছেন, তাঁরা ‘খারাপ লোক’, সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রতিবাদী এবং পাল্টা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ‘খুব ভাল লোকজনও ছিলেন।’

ট্রাম্প যে ভাবে ঘুরপথে বর্ণবিদ্বেষী এবং নব্য-নাৎসিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতেই চলছে সমালোচনা। সঙ্গে শিরোনামে এসেছে নেলসন ম্যান্ডেলাকে উদ্ধৃত করে বারাক ওবামার টুইট। চার শিশুর সঙ্গে হাসিমুখে ওবামার ছবি-সহ এই টুইট রিটুইট হয় এগারো লক্ষেরও বেশি বার। লাইক কুড়ি লক্ষ। সব চেয়ে পছন্দের টুইট হিসেবে নয়া রেকর্ডও।

শার্লটসভিল থেকে রবার্ট ই লি-র মূর্তি সরানো নিয়ে গত শুক্রবার থেকে শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণপন্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তা নিয়ে গোড়ায় মন্তব্য না করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে অবশ্য টুইটারে ‘‘সব পক্ষের এই বিদ্বেষ ও হিংসামূলক আচরণের সমালোচনা করছি’’, এই বলে দায় সারতে চেয়েছিলেন তিনি। অশান্তি কমেনি। তখন সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘‘বর্ণবিদ্বেষ ব্যাপারটাই অশুভ।’’

কেউ অন্য বর্ণ-ধর্ম -জাতির প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে জন্মায় না...। মানুষ ঘৃণা করতে শেখে। আর যদি কেউ ঘৃণা করা শিখতে পারে, তাকে ভালবাসতেও শেখানো যায়...। কারণ ঘৃণা নয়, মানবহৃদয়ে স্বাভাবিক ভাবে ভালবাসারই আধিপত্য।

বারাক ওবামা

কিন্তু মঙ্গলবার ট্রাম্প টাওয়ারে দেখা গেল ট্রাম্পের অন্য মূর্তি। অতি-দক্ষিণদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের প্রতিও ‘রোষ’ গোপন রাখেননি প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা যে লাঠি হাতে এগিয়ে এল? ওদের সমস্যা নেই? আমার তো মনে হয় আছে।’’ দক্ষিণের প্রদেশগুলিতে যে ভাবে মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময়কার ‘নায়ক’দের মূর্তি সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সমালোচনায় মুখর প্রেসিডেন্টের মন্তব্য, ‘‘এই সপ্তাহে রবার্ট ই লি। স্টোনওয়াল জ্যাকসনকেও সরানোর পরিকল্পনা হচ্ছে দেখেছি। ভাবছি এর পরে আগামী সপ্তাহে কি জর্জ ওয়াশিংটনের পালা?’’ তার পরে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা ইতিহাস পাল্টে দিচ্ছেন। সংস্কৃতি পাল্টে দিচ্ছেন। নব্য-নাৎসি বা অতি দক্ষিণ শ্বেতাঙ্গদের কথা বলছি না। ওদের সমালোচনা করাই উচিত। ওই দলে আরও লোক ছিলেন।’’

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দিন যে ট্রাম্পকে দেখা গিয়েছে, তাতে বর্ণবিদ্বেষী হিংসা আরও বাড়বে বলে তাঁদের আশঙ্কা। বিবৃতি দিয়ে এই হিংসার নিন্দা করেছেন প্রাক্তন দুই প্রেসিডেন্ট বাবা ও ছেলে বুশ। হোয়াইট হাউসের এক সূত্রের দাবি, ট্রাম্প আজ যা বলেছেন, তা আগে থেকে লেখা বিবৃতি ছিল না। ওঁর যা মনে হয়েছে, তা-ই বলেছেন!