শরণার্থী-স্রোত আটকাতে এ বার কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে মেক্সিকো। মঙ্গলবার আচমকাই তাঁর স্বভাবসিদ্ধ নাটকীয় ভঙ্গিতে সে কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

রোদ ঝলমলে দিন। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। হাতে একটি কাগজ, তাতে অনেক কিছু লেখা এবং নীচে সই করা। কাগজটি নাড়তে-নাড়তে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প জানান, যা লেখা আছে, তা একেবারে ‘গোপন’। তিনি জানাবেন না। তবে এটুকু বলতে দ্বিধা নেই, মেক্সিকো-আমেরিকা চুক্তি হয়েছে। এবং চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে শরণার্থী-স্রোত আটকাতে প্রাথমিক ভাবে কিছু পদক্ষেপ করতে চলেছে তারা। সেগুলি সফল না হলে ৪৫ দিনের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে মেক্সিকো। 

শরণার্থীদের আটকাতে দীর্ঘদিন ধরেই মেক্সিকোর উপরে চাপ বাড়াচ্ছিল আমেরিকা। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, মেক্সিকো এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ না করলে মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় রফতানি হওয়া পণ্যের উপরে বাড়তি শুল্ক বসাবে ওয়াশিংটন। এ দিন কাগজটি দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, রফতানি পণ্যের উপরে বসানো শুল্ক এড়াতে গত শুক্রবার শরণার্থী সমস্যা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মেক্সিকো। জানা গিয়েছে, দেশের মধ্যে বেশ কিছু নতুন আইন জারি করছে মেক্সিকো। যেমন, মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে ৬০০০ নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হবে। ফলাফলে ওয়াশিংটন সন্তুষ্ট না হলে, ৪৫ দিনের মধ্যে মেক্সিকো সরকার যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। কিন্তু ঠিক কী ব্যবস্থা নেবে, তা জানানো হয়নি। 

আজ মেক্সিকোর প্রভূত প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। বলেন, ‘‘সীমান্তে ওরা দারুণ কাজ করছে। সত্যিই আমাদের সাহায্য করছে। আমাদের দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে।’’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে মধ্যস্থ হিসেবে কাজ করেছেন মেক্সিকোর বিদেশমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্ড। জানান, চুক্তির বয়ান একেবারেই গোপন রাখা হবে। তবে বারবারই এটাও বলেছেন, ‘‘সব কিছু একেবারে ঠিক আছে।’’

  এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।