প্রশাসন থেকে যখন ইচ্ছে, যাকে ইচ্ছে সরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ আইনজীবী রবার্ট মুলারকেও হটাতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প! গত কাল মুলার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরে জানা গিয়েছে এমন নানা তথ্য। 

রিপোর্টে রয়েছে, ২০১৭ সালের জুন মাসে হোয়াইট হাউসের তৎকালীন আইনজীবী ডন ম্যাকগেহানকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মুলারকে সরিয়ে দেওয়া হোক। তবে প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশ শোনার পরে ম্যাকগেহানই ইস্তফা দেন। বিশেষ আইনজীবী মুলারকে ম্যাকগেহান বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পালন করার ইচ্ছে তাঁর ছিল না। ট্রাম্প যদি আবার ডেকে একই কথা বলেন, তা হলে তিনি কী জবাব দেবেন, তা-ও জানা ছিল না ম্যাকগেহানের।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্তে বাধা দানের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছিল কারণ এফবিআইয়ের প্রাক্তন অধিকর্তা জেমস কোমি-সহ তাঁর প্রশাসনের অনেক সদস্যই ট্রাম্পের নির্দেশ মানেননি। পাশাপাশি রিপোর্টে দাবি, ট্রাম্প টাওয়ারে ২০১৬ সালের জুন মাসে রুশ মধ্যস্থ এবং ট্রাম্পের প্রচারদলের অফিসারদের যে বৈঠক হয়েছিল, তা নিয়ে ট্রাম্প নিজে বিভ্রান্তিকর উত্তর দিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্পের আইনজীবী এবং হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারা স্যান্ডার্স বলেছিলেন, ওই বৈঠক হয়ইনি। মুলার প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং জামাই জ্যারেড কুশনারকে অভিযুক্ত করার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ তা করেননি কারণ, তাঁরা যে ইচ্ছাকৃত ভাবে আইন ভেঙেছিলেন, তা প্রমাণ করা সম্ভব নয় বলে মনে হয় মুলারের। তবে সব কিছুর পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার টুইটে লিখেছেন, ‘‘মুলারের রিপোর্টে আমার সম্বন্ধে অনেকের মুখ দিয়ে যা বলানো হয়েছে, তা পুরোপুরি জাল এবং অসত্য। ১৮ জন রাগী ট্রাম্প-বিদ্বেষী ডেমোক্র্যাটও সব লিখিয়েছে।’’ এ দিন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়াও। ক্রেমলিন সূত্রে বলা হয়েছে, মুলার রিপোর্টও রুশ হস্তক্ষেপের ‘কোনও যুক্তিযুক্ত প্রমাণ’ খুঁজে পায়নি।

এ দিকে ট্রাম্পকে তাদের জনপ্রিয় ইংরেজি টিভি সিরিজ় ‘গেম অব থ্রোনস’-এর আদলের মিম ব্যবহার করতে বারণ করেছে টিভি চ্যানেল এইচবিও। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের রিপোর্টের ‘ব্যাখ্যার’ সমালোচনায় তেমনই একটি মিম টুইট করেছিলেন ট্রাম্প।