চেয়েছিলেন, বানানো হোক। আমেরিকারও হাতে থাকুক। যেহেতু হিটলারের জার্মানি তা বানানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। কিন্তু নিরীহ মানুষের ওপর সেটা ফেলা হোক, চাননি।

তাই যে দিন সেটা সত্যি-সত্যিই ফেলা হল হিরোশিমায়, সে দিন তিনি মনের আনন্দে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। নৌকাবিহার করছিলেন লোয়ার সারানাক লেকে। ফেলা হবে, জানতেন না যে! তাঁকে জানানোই হয়নি! রেডিও’র খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন।

অথচ, তিনি আইনস্টাইন যদি চিঠি না লিখতেন তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্টকে, তা হলে পরমাণু বোমাটা বানানোর চিন্তাটাই তাঁর মাথায় আসতো না। তড়িঘড়ি শুরু করে দিতেন না ‘ম্যানহাটন প্রোজেক্ট’-এর কাজ। আমেরিকার পরমাণু বো‌মার আঁতুড়ঘর। রবার্ট ওপেনহাইমারের মতো বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানীরা থাকলেও, মূলত যাঁর সতর্কতা থেকে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের আমলে ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’-এর সূত্রপাত, সেই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কিন্তু কোনও দিন ছায়াও মাড়াননি ওই প্রজেক্ট-সাইটের।

আরও পড়ুন- ওজন আধুলির মতো! পৃথিবীকে পাক মারছে ৬ মহাকাশযান

আরও পড়ুন- সৌরমণ্ডলের বাইরে এই প্রথম চাঁদ দেখল মানুষ

তিনি শুধু চেয়েছিলেন, আমেরিকারও হাতে থাকুক পরমাণু বোমা, যেহেতু হিটলারের জার্মানি তা বানানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। আইনস্টাইনের বক্তব্য ছিল, বোমা ফেলতে হবে না। কিন্তু আমেরিকার হাতেও সেই বোমা থাকলে পৃথিবীতে ভারসাম্য থাকবে। পরমাণু বোমা বানিয়ে তার যে কোনও শত্রু দেশে তা ফেলার আগে বারদু’য়েক ভাববে হিটলারের জার্মানি।


অ্যালবাম থেকে: ১৯৪৫-এর ৬ অগস্ট। পরমাণু বোমা পড়ল হিরোশিমায়।

রোনাল্ড ক্লারিকের লেখা সদ্য প্রকাশিত গবেষণাধর্মী বই ‘আইনস্টাইন: দ্য লাইফ অ্যান্ড টাইমস’ এই তথ্য দিয়েছে। হিটলারের নাৎসি জার্মানি ছেড়ে ১৯৩০ সালেই আমেরিকায় চলে যান জার্মান ইহুদি বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। থাকতে শুরু করেন লং আইল্যান্ডে। তার ৯ বছরের মাথায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে একটি চিঠি লেখেন আইনস্টাইন। সেই চিঠিতেই আইনস্টাইন লেখেন, তাঁর কাছে খবর আছে, জার্মানি পরমাণু বোমা বানানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। এর পরেই নড়েচড়ে বসেন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট। আইনস্টাইন তখন কাজ করতেন মার্কিন নৌবাহিনীতে। প্রচলিত বিস্ফোরক বানানোর প্রকল্পে তিনি ছিলেন রিসার্চ কনসালট্যান্ট।

১৯৪৫-এর ৬ অগস্ট: যেখানে ছুটি কাটাচ্ছিলেন আইনস্টাইন

আরও পড়ুন- ভিনগ্রহী হানা ঠেকাতে ‘দারোয়ান’ খুঁজছে নাসা, মাইনে সওয়া কোটি!

তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। ১৯৪৫ সালের ৬ আর ৯ অগস্ট। পর পর দু’টি পরমাণু বোমা ফেলে আমেরিকা। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে। পৃথিবীর ইতিহাসে সেই প্রথম আর সেই শেষ পরমাণু বোমা পড়ার ঘটনা। মারা যান দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ। প্রতিবন্ধী হয়ে যান আরও কয়েক লক্ষ মানুষ। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হন বংশগত রোগে। তার কয়েক দিনের ম‌ধ্যেই শেষ হয়ে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।