পাগড়ি পরে ঢুকেছিলেন বলে আইনপড়ুয়া এক শিখ ছাত্রকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া হল লন্ডনের একটি বার থেকে। গত ফেব্রুয়ারিতেও পাগড়ি পরার জন্য লন্ডনে শ্বেতাঙ্গদের বিদ্রূপের শিকার হয়েছিলেন এক ভারতীয় শিখ পরিবেশকর্মী।

বিবিসি জানাচ্ছে, শনিবার ব্রিটেনের নটিংহ্যামশায়ারের ম্যান্সফিল্ডে ‘রাশ লেট বার’-এ বন্ধুদের নিয়ে পাগড়ি পরে ঢুকেছিলেন অমৃক সিংহ নামে ২২ বছর বয়সী এক ছাত্র। বারের এক বাউন্সার তাঁদের টেবিলে এসে অমৃককে পাগড়ি খুলে ফেলতে বলেন। তাতে অমৃক রাজি হননি বলে তাঁকে টেবিল থেকে তুলে টেনেহিঁচড়ে বারটি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অমৃককে জানানো হয়, ওই বারে পাগড়ি পরে ঢোকার নিয়ম নেই।

অমৃক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘কেন পাগড়ি পরেছি জানতে চাইলে আমি বাউন্সারকে বলি, এটা আমাদের চুল বাঁচায়। এটা আমাদের ধর্মীয় রীতিও। কিন্তু বাউন্সারটি কিছুই মানতে চাননি। বাউন্সারটি ওই সময় অমৃককে প্রশ্ন করে, ‘তোমাকে পাগড়ি পরে বারে ঢুকে পানাহারের অনুমতি কে দিল?’ আমি সব সময়েই রাস্তাঘাটে পাগড়ি পরে ঘুরি।’’

কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। বাউন্সারটি অমৃককে বলেন, ‘‘আমি ও সব শুনতে চাই না। তুমি পাগড়িটা খুলে ফেল।’’ অমৃক তাতে রাজি হননি। তখন বাউন্সারটি টেনেহিঁচড়ে বার থেকে বের করে দেন অমৃককে।

আরও দেখুন- নিজেদের ভিডিও করল ‘ক্যামেরাম্যান’ পেঙ্গুইন! দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন- হিজাব খোলায় দু’বছরের জেল ইরানি প্রতিবাদীর​

নটিংহ্যামশায়ারের ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শেষ বর্ষের ছাত্র অমৃক পরে তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘‘এই ঘটনায় আমি মর্মাহত। ক্ষুব্ধ। আমার ধর্মীয় রীতির জন্য আমাকে বার থেকে বের করে দেওয়া হল! অথচ আমার পূর্বপুরুষরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। আমার এবং আমার মা-বাবার জন্ম ব্রিটেনেই।’’

বার কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বাউন্সারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ম্যান্সফিল্ডের লেবার কাউন্সিলর সনিয়া ওয়ার্ডকে লেখা চিঠিতে বার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘‘এটা তাঁদের বারের রীতিপ্রথা নয়।’’