প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের স্ত্রী বেগম কুলসুম মারা গেলেন। দীর্ঘ দিন ধরে গলার ক্যানসারে ভুগছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে ভর্তি ছিলেন লন্ডনের হার্লে স্ট্রিট ক্লিনিকে। মঙ্গলবার সেখানেই মারা গিয়েছেন তিনি।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

তবে শেষ মুহূর্তে স্বামীর সাহচর্যটুকু পাননি বেগম কুলসুম। কারণ, পানামা দুর্নীতি মামলায় আপাতত পাকিস্তানে জেল খাটছেন নওয়াজ। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ারা জেলে বন্দি রয়েছেন তিনি। জুলাইয়ে দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তাঁর কন্যা মরিয়ম এবং জামাতা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মহম্মদ সফদরও। তাঁরাও ওই একই জেলে বন্দি।

টুইটারে বেগম কুলসুমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন শরিফের ভাই ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের সভাপতি শেহবাজ শরিফ। তিনি লেখেন, ‘আমার বৌদি  এবং নওয়াজ শরিফ সাহেবের স্ত্রী আর আমাদের মধ্যে নেই। আল্লাহ ওঁর আত্মাকে শান্তি দিন।’পাকিস্তানের জিও টিভি জানিয়েছে, সোমবার রাতেই বেগম কুলসুমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।তারপর তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি।নওয়াজ শরিফ ও তাঁর মেয়ে-জামাইকে বেগম কুলসুমের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁর দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার তোরজোর করছে শরিফ পরিবার। পাকিস্তানেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: চিনের কোলে বসল নেপাল! সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা

বেগম কুলসুমের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন সে দেশের নয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আইন মেনে তাঁকে সমাধিস্থ করতে সবরকম সরকারি সুবিধা দেওয়া হবে বলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন তিনি।লন্ডনে পাক হাইকমিশনারকেও শরিফ পরিবারকে সবরকম সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন। নওয়াজ শরিফের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন সে দেশের সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াও। সেনা মুখপাত্রের তরফে টুইট করা হয়, ‘বেগম কুলসুম নওয়াজের প্রয়াণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সেনা প্রধান। তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।’

গত বছর অগস্টে গলার ক্যানসারে আক্রান্ত হন বেগম কুলসুম নওয়াজ। সেই থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। একাধিক অস্ত্রোপচার-সহ পাঁচদফায় কেমোথেরাপিও নিয়েছেন। এ বছর জুন মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। সেই সময়ও ভেন্টিলেশনে রাখা হয় তাঁকে। তারপরে তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছিল বলে ১২ জুলাই বিবৃতি দেয় শরিফ পরিবার। তার একদিন পরেই জেল খাটার জন্য দেশে ফেরেন নওয়াজ শরিফ ও মরিয়ম।

১৯৯০-৯৩, ১৯৯৭-৯৯ এবং ২০১৩-১৭, মোট তিনবার দেশের ফার্স্টলেডি ছিলেন বেগম কুলসুম। ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের সভাপতিও ছিলেন। ১৯৯৯ সালে শরিফ সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানের শাসনভার হাতে নেন পারভেজ মুশারফ। সেই সময় স্বামীর সঙ্গে জেলবন্দি হন বেগম কুলসুম। পানামা দুর্নীতির জেরে গত বছর নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতাচ্যুত করে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট। যার পর স্বামীর নির্বাচনী কেন্দ্র লাহোর এনএ-১২০ থেকে নির্বাচিত হন বেগম কুলসুম। তবে শারীরিক অসুস্থতার জেরে সেখানে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করতে পারেননি। 

আরও পড়ুন: ভারতকে ‘না’, নেপাল জানাল, চিনের সঙ্গেই যাবে যৌথ মহড়ায়

১৯৫০ সালে লাহৌরে এক কাশ্মীরি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বেগম কুলসুম। লাহৌরের ফরমান ক্রিশ্চিয়ান কলেজ থেকে স্নাতক হন। ১৯৭০ সালে পঞ্জাব ইউনিভার্সিটি থেকে উর্দুতে স্নাতকোত্তর পর্বের পড়াশোনা শেষ করেন।