ভেনেজুয়েলার ঘরের কোন্দল আর ঘরোয়া রইল না। লাতিন আমেরিকার খনিজ তেলের ভাণ্ডার এই ছোট্ট দেশটিকে ঘিরে ঠান্ডা লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ল আমেরিকা ও রাশিয়া-সহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি।

 প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে  অস্বীকার করে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বুধবারই জানিয়েছিল আমেরিকা। পাশাপাশি বিরোধী নেতা হুয়ান গাইডোকে অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে মাদুরোকে কোণঠাসা করার জবরদস্ত চাল দিয়েছিল আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলি। কিন্তু পরের দিনই পাল্টা জবাব দিলেন মাদুরো। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মাদুরোকে সমর্থন জোগানোর কথা ঘোষণা করেছে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়াও। বৃহস্পতিবার মাদুরোকে সব রকম সাহায্যের 

আশ্বাস দিয়ে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। 

২০১৩ সালে সামরিক সাহায্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মাদুরো। গত বছরের শেষ দিকে সাধারণ নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হন তিনি। কিন্তু ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধীরা। দুর্নীতি ও বেহাল অর্থনীতির অভিযোগ তুলে 

মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতা হুয়ান গাইডোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মান্যতা দিয়েছে আমেরিকা, ব্রাজ়িল, পেরু, চিলের মতো দেশগুলি। 

এই রাজনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে গত সাত দিনে ভেনেজুয়েলায় যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপুঞ্জকে। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার শাখার প্রধান জানান, গত সাত দিনে ৩৫০ আন্দোলনকারী গ্রেফতার হয়েছেন। মৃত অন্তত ২৬। শান্তি ফেরাতে শনিবার জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ।