মাথা নিচু করে নিজের কাজ করে যান। কর্মীদের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ বহুজাতিক সংস্থা গুগলের।

শুক্রবার সংস্থার প্রায় ১ লক্ষ কর্মচারীর জন্য গুগলের নয়া নির্দেশিকা, অফিসে বসে আর খোলামেলা রাজনৈতিক আলোচনা নয়। কাজের বাইরের বিষয়েও তর্কবিতর্ক বন্ধ করতে হবে। এমনকি, কোনও কর্মীর নাম নিয়ে তাঁকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ বা উত্যক্ত করা হলে, তাতেও দাঁড়ি টানতে হবে। তবে কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চলতে পারে। কর্মীদের কটূ মন্তব্য বা বেসামাল আচরণ দেখলে, তা নিয়ে সংস্থার ম্যানেজারেরা ব্যবস্থা নিতে পারেন।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই নির্দেশিকা? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সংস্থার ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ গুগলের। সম্প্রতি নানা কারণেই সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছে এই সংস্থা। তা সে সংস্থার অন্দরে উচ্চপদস্থ কর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগই হোক বা ভুল তথ্য পরিবেশন করা— বেশ কিছু বিষয়েই মুখ পুড়েছে গুগলের। পাশাপাশি, হোয়াইট হাউসের তোপের মুখেও পড়তে হয়েছে গুগল কর্তৃপক্ষকে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক নীতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে গুগল-কর্মীরা খোলামেলা সমালোচনা করেন— এমন অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী সংক্রান্ত বিষয়ে ইউটিউবে ভুল তথ্য পরিবেশনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে নিজের মুখ বাঁচাতেই বিশ্ব জুড়ে সংস্থার প্রত্যেক কর্মীর জন্য নয়া গাইডলাইন জারি করেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

আরও পড়ুন: কাশ্মীর ‘দ্বিপাক্ষিক’ মানলেও, উত্তেজনা কমাতে মোদীর ভাবনা জানতে চান ট্রাম্প

আরও পড়ুন: তিন দশক ধরে বিএসএফ অফিসার, এনআরসি জানাল, ‘বিদেশি’

গুগলের মুখপাত্র জেন কাইসারের অবশ্য দাবি, ‘‘আমরা শুনেছি যে কর্মীরা জানতে চান, ঠিক কী করা উচিত বা উচিত নয়!’’ সংস্থার ওয়েবসাইটে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হল, যে কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে, তা যথাযথ ভাবে পালন করা। কাজের সময় তার বাইরের কোনও বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক করে অযথা সময় নষ্ট করা নয়।’  সেই সঙ্গে তাঁর পরামর্শ, ‘এমন কোনও আলোচনা করা থেকে বিরত থাকুন, যা গুগলের নীতিবিরোধী বা ক্ষতিকারক।’ তাঁর মতে, ‘গুগলের কর্মী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা দায়িত্ব এসে বর্তায় আমাদের উপরে। কারণ, লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতি দিন নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের জন্য আমাদের উপর নির্ভর করে থাকেন।’

তবে গুগল কর্তৃপক্ষ যা-ই বলুন না কেন, এই নির্দেশিকার ফলে যে সংস্থার খোলামেলা পরিবেশে কোপ পড়বে, তা মনে করছেন অনেকেই।