• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ইয়েমেন থেকে ভারতীয়দের সরাতে উদ্যোগী নয়াদিল্লি

ইয়েমেন থেকে ভারতীয়দের সরাতে উদ্যোগী হল নয়াদিল্লি। এই কাজের জন্য দু’টি জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  ইয়েমেনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লা সালের সমর্থক শিয়া হুথি জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই চলছে আবেদাব্বো মনসুর হাদির সমর্থক সুন্নি জঙ্গিদের। গতকালই ইয়েমেনে বসবাসকারী ভারতীয়দের সে দেশ ছাড়তে বলেছিল বিদেশ মন্ত্রক।

আজ বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, প্রবাসী ভারতীয় মন্ত্রক ও এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইয়েমেনে ভারতীয় দূত অমৃত লুগুনের সঙ্গে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ইয়েমেনে এখন প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই নার্স। ওই ভারতীয়দের অনেকে কেরলের বাসিন্দা। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী উমেন চান্ডি জানিয়েছেন,  আফ্রিকার জিবুতি হয়ে দু’টি জাহাজ পাঠানো হবে বলে তাঁকে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ইয়েমেনের সব বিমানবন্দর বন্ধ। তাই জিবুতি পর্যন্ত ভারতীয়দের জাহাজে আনা হবে। সেখান থেকে তাঁরা বিমানে দেশে ফিরবেন।   

আজ ইয়েমেনের সংঘর্ষের মাত্রা আরও বাড়িয়ে হাদির সমর্থক সুন্নিদের পক্ষে বিমান হানা শুরু করেছে সৌদি আরব। শিয়া হুথিদের ইরান মদত দেয় বলে কূটনীতিকদের ধারণা। তাই সৌদি আরব সুন্নি বাহিনীর পক্ষে আসরে নেমেছে। আজ ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত আদেল আল-জুবের  বলেন, “ইয়েমেনে স্থিতাবস্থা ফেরাতে ও প্রকৃত শাসককে সুরক্ষিত করতে যা যা করার প্রয়োজন, সবই করব আমরা।” সূত্রের খবর, এ দিন বিমান হামলায় মহিলা ও শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে এই অভিযানে হাত মিলিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ, এমনকী পাকিস্তানও। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে বাড়তে পারে তেলের দাম।

রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, সরকার ও বিরোধী পক্ষের মসনদ দখলের লড়াইয়ে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইয়েমেনে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জঙ্গিদের রমরমা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমেরিকার অন্যতম সহযোগী ইয়েমেন। কিন্তু সে দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের জেরে সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনের ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে আমেরিকা। উত্তর ইয়েমেনের প্রায় পুরোটাই দখল করে রেখেছে হুথিরা। দেশের দক্ষিণাংশ রয়েছে হাদিপন্থীদের কবলে। নজরবন্দি হওয়া এড়াতে প্রেসিডেন্ট হাদি রাজধানী সানার প্রাসাদ ছেড়েছেন গত মাসে। আজ বিরোধী পক্ষের আক্রমণের ভয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের আদেনের বাড়িও ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। দেশে শান্তি ফেরাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে আর্জি জানিয়েছেন হাদি।

সৌদি অভিযানের বিরোধিতা করে আজ বিবৃতি জারি করেছে ইরান সরকার। ইরানের প্রেসিডেন্ট  হাসান রৌহানির কথায়, “বিদেশি সেনা ইয়েমেনে  হস্তক্ষেপ করলে লড়াই ছড়িয়ে পড়বে প্রতিবেশী দেশেও।” হুথিদের অস্ত্র এবং অর্থ দিয়ে সাহায্য করার কথাও অস্বীকার করেছে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক। এই নিয়ে মুখ খুলতে চাননি সৌদি আরবের কোনও আধিকারিক।     

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন