মার্কিন মুলুকে এইচওয়ান-বি ভিসা মঞ্জুর আইনের কড়াকড়িতে খুব সমস্যায় পড়ে গিয়েছে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি। কাজের জন্য সংস্থাগুলি ভারত থেকে দক্ষ কর্মী নিয়ে যেতে পারছে না।

মার্কিন মুলুকে গিয়ে কাজ করার জন্য জরুরি এইচওয়ান-বি ভিসা আর খুব সহজে মঞ্জুর করছে না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে দ্রুত হারে। যার ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সইতে হচ্ছে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেই।

মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সংস্থা ‘ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি’-র সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, ২০১৫ সালেও মোট আবেদনের ৬ শতাংশ বাতিল হয়েছিল। আর চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকেই এইচওয়ান-বি ভিসার ২৪ শতাংশ বাতিল করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রত্যাখ্যানের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে চাকরির ক্ষেত্রেই। থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সংস্থাটি সমীক্ষা চালিয়েছে আমেরিকার নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংক্রান্ত দফতরের (ইউএসসিআইএস) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে।

মূলত এই ভিসার উপর নির্ভর করেই এত দিন দেশ থেকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে কর্মী নিয়োগ করেছে সেখানকার ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘ট্রাম্প জমানায় ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেই যেন টার্গেট করা হয়েছে।’’

আরও পড়ুন- প্রাণে বাঁচতে মেষপালক সেজে ঘুরে বেড়াত বাগদাদি! দাবি ঘনিষ্ঠ মহলের​

আরও পড়ুন- পরিবারকে রক্ষা করতে গর্ভবতী মহিলা রাইফেল দিয়ে গুলি করে মারলেন দুষ্কৃতীকে​

সমীক্ষা জানাচ্ছে, ‘গুগল’, ‘অ্যামাজন’, ‘মাইক্রোসফ্‌টে’র মতো বহুজাতিক সংস্থাগুলিকেও ট্রাম্প জমানার ভিসা আইনের কড়াকড়ির ধকল সইতে হচ্ছে। তবে তা ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির তুলনায় অনেকটাই কম।

‘অ্যামাজন’, ‘মাইক্রোসফ্‌ট’, ‘ইনটেল’ ও ‘গুগলে’ চাকরির জন্য ২০১৫ সালে ভিসার মোট আবেদনের এক শতাংশ বাতিল করা হয়েছেল। চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত সেই হার যথাক্রমে বেড়ে হয়েছে ৬ শতাংশ, ৮ শতাংশ, ৭ শতাংশ এবং ৩ শতাংশ। ‘অ্যাপল’-এর ক্ষেত্রে অবশ্য সেই হার ২০১৫ সালেও (২ শতাংশ) যা ছিল, এ বছরও সেটাই রয়েছে।

অথচ ওই একই সময়ে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টেক মহিন্দ্রার ক্ষেত্রে তা ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশ হয়েছে। ‘টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)’-এর ক্ষেত্রে তা ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৪ শতাংশ, আর ‘উইপ্রো’র ক্ষেত্রে সেটা ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৩ শতাংশ। ‘ইনফোসিসে’র ক্ষেত্রে তা ২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫ শতাংশ।

শুধু তাই নয়, সমীক্ষা জানাচ্ছে, যে ১২টি ভারতীয় সংস্থা মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও পেশাদার নিয়োগে সহায়তা করে, ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের শিকার তাদেরও হতে হচ্ছে যথেচ্ছ ভাবে। ‘অ্যাকসেনটিওর’, ‘ক্যাপজেমিনি’র মতো ভারতীয় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে গত ৪ বছরে ওই প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে ৩০ শতাংশ।