পার্কিং লটের কাছে প্যাকেটটি পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে সন্দেহই হয়েছিল চিকিৎসকদের। কিন্তু খুলতেই যা বেরোল, তা দেখে তাঁদেরই হৃৎপিণ্ড লাফিয়ে ওঠার জোগাড়। উঁকি মারছে রক্তমাখা এক আস্ত হৃৎপিণ্ড!

গত ২৫ অগস্টের ঘটনা। আর পাঁচটা দিনের মতোই জরুরি ফোন পেয়ে ওহায়োর নরওয়াক পার্কিং লট থেকে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে বেরিয়েছিল দলটি। এক ঘণ্টা পর ফিরে আসতেই চোখে পড়ে প্যাকেটটা। দলটি জানায়, হৃৎপিণ্ডটি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তা বেশ তাজা। তাই সময় নষ্ট না করে পুলিশকে ডেকে আনেন তাঁরা। কিছু ক্ষণের মধ্যেই হৃৎপিণ্ডটি দেখতে স্থানীয়দের ভিড় উপচে পড়ে। আর সেই সঙ্গেই ওঠে প্রশ্ন— হৃৎপিণ্ডটা কার? কোথা থেকে এল?

বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নির্জন পার্কিং লটে ওই প্যাকেটটা কে রেখে গিয়েছে, তারও খোঁজ শুরু হয়েছে। আমেরিকার ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট জানাচ্ছে, রোজকার তালিকায় অন্তত এমন ৩ হাজার রোগীর নাম থাকে যাঁরা হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু সেই তুলনায় জোগান কম। ফলে বিভিন্ন হাসপাতাল ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, কেউ জরুরি অবস্থায় কোনও হৃৎপিণ্ড জোগাড় করেছিলেন কি না, যা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার সময় হয়তো ভুলবশত পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ এসে হৃৎপিণ্ডটি পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার আগেই তা এক দফা পরীক্ষা করেছিল ওই চিকিৎসক দলটি। তাঁদের অনুমান, ওই হৃৎপিণ্ডটি মানুষের হওয়ার ৯৫% সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মানুষের হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে গঠনে মিল রয়েছে শুয়োর, শিম্পাঞ্জি বা কুকুরের হৃৎপিণ্ডের। যার ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়লে ওই প্রাণীদের হৃৎপিণ্ড থেকে ভাল্ভ নিয়ে মানুষে হৃৎপিণ্ডে বসানো হয়। তাই পশু চিকিৎসকদেরও মতামত জরুরি বলে মনে করছে পুলিশ।

ওহায়োর এই ঘটনার আগে গত জুলাইয়ে পেন্সিলভেনিয়ায় এক যুবকের বাড়ি থেকে মানুষের মস্তিষ্ক পাওয়া গিয়েছিল। পরে তা চুরি করার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, মাদকের সঙ্গে মস্তিষ্কের রস মিশিয়ে নেশা করার জন্য সেটি চুরি করে এনে লুকিয়ে এসেছিল ধৃতেরা। তারা মস্তিষ্কটির নামকরণও করেছিল। এ ক্ষেত্রেও চুরির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানিয়েছে।