কেটে গিয়েছে কয়েকটা দশক। ১৯৮৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর নামে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছিলেন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনি। অপরাধ— ‘ধর্মদ্রোহ’। তাঁর কলম থেকেই যে বেরিয়েছিল ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’। খোমেইনি মারা গিয়েছেন, কিন্তু ‘ফতোয়া’ জারি থেকেছে বছরের পর বছর। সেই সময়ের সেই আতঙ্কের দিনগুলো নিয়ে প্যারিসে একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন সলমন রুশদি। বললেন, ‘‘এ ভাবে লুকিয়ে বাঁচতে চাই না।’’

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই লেখক ১৩ বছর বেনামে কাটিয়েছেন। প্রতিনিয়ত পুলিশি পাহারায় কার্যত ‘বন্দি’ থেকেছেন। রুশদি সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘‘তখন ৪১ বছর বয়স ছিল। আর আজ আমি ৭১। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ঠিক।’’ ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ‘ছদ্মনামে’র জীবন থেকে বেরিয়ে আসেন রুশদি। তার বছর তিনেক আগেই তেহরান ঘোষণা করেছিল, লেখকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। রুশদি এ দিন বলেন, ‘‘আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বাস করি, যেখানে সব কিছু খুব দ্রুত বদলে যায়। এটা অনেক পুরনো একটা বিষয়। এখন ভয় পাওয়ার মতো আরও অনেক কারণ গজিয়ে উঠেছে। আরও অনেক লোক রয়েছেন, যাঁদের মাথার উপরে খাড়া ঝুলছে।’’ গত বিশ বছর ধরে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা রুশদি। সম্প্রতি পূর্ব ফ্রান্সে একটি বই-উৎসবে তিনি বলেছিলেন, ‘‘এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন কাটাই।’’ যদিও প্যারিসে এই সাক্ষাৎকার চলাকালীন ফরাসি প্রকাশকের দফতরের বাইরে পুলিশি পাহারা ছিল। 

‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ রুশদির পঞ্চম বই ছিল। ১৮তম উপন্যাসটি সদ্য শেষ করেছেন তিনি— ‘দ্য গোল্ডেন হাউস’। এক মুম্বইবাসীকে নিয়ে কাহিনি। ঘটনাচক্রে যাঁর সঙ্গে লেখকের নিজের জীবনের মিল অনেকটাই বলে জানান তিনি। ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ যখন লিখেছিলেন রুশদি, সেই সময়ের কথা টেনে তিনি বলেন, ‘‘সে সময়ে ইসলাম তেমন কোনও বিষয় ছিল না। কেউ অত ভাবতও না। এখন যেটা হয়েছে, পশ্চিমের মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল।’’ তবে রুশদির আক্ষেপ, ‘‘বইটা সম্পর্কে ভুল বোঝা হয়েছিল। সত্যি, লন্ডনের দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের নিয়ে লেখা।’’