আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার আঁচ সামলাতে সামরিক, তেল ও বাণিজ্য— সব ক্ষেত্রেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করল নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যেই ওমান ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। শুরু করা হয়েছে আকাশপথে নজরদারি। ভবিষ্যতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় থাকায় তেল আমদানির বিকল্প পথেরও সন্ধান শুরু হয়েছে। 

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইস্পাতমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে গত কাল দীর্ঘ ক্ষণ কথা হয়েছে সৌদি আরবের শক্তি মন্ত্রী খালিদ আল ফালিহ-র। বর্তমান ভূকৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই মন্ত্রী। ইরান-আমেরিকা সংঘাত, বিশ্বের অশোধিত তেলের দামে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়েও কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সৌদি আরবকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ও ভারতের তেল বাজারে আরও বেশি বিনিয়োগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। 

উদ্ভূত বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই ভারতের সেনসেক্স এক ধাক্কায় পড়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি বাড়ে ব্যারেল প্রতি ‘ব্রেন্ট ক্রুড‌’-এর দাম। এ ছাড়া, পারস্য উপসাগর দিয়ে দিনে পাঁচ থেকে আটটি অশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার যাতায়াত করে ভারতের। সূত্রের খবর,  নিরাপত্তা খাতে এর প্রত্যেকটিতে এক জন করে নৌসেনা অফিসার ও দু’জন করে নাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্যাঙ্কারে কপ্টার-ডেক থাকলে, প্রয়োজনে যাতে সেখানে নৌবাহিনীর কপ্টার নামানো যায়, তারও বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে আকাশপথেও। ডিজি (সিভিল অ্যাভিয়েশন) জানিয়েছেন, যাত্রী নিরাপত্তার কথা ভেবে ইরানের আকাশপথের উপর দিয়ে ভারতীয় বিমানের উড়ানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত উড়ানগুলির গতিপথ পরিবর্তন করা হচ্ছে।