এক দিকে কূটনৈতিক স্তরে মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দৌত্য। অন্য দিকে, ভারত-মার্কিন বিভিন্ন সংগঠনগুলোকে দিয়ে ট্রাম্প নেতৃত্বের উপর চাপ তৈরি করা।

আমেরিকায় কর্মরত এবং বসবাসকারী ভারতীয়দের পেশা এবং নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এই দু’টি মাধ্যমে সক্রিয়তা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে নয়াদিল্লি। আজ থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশন। প্রথম দিনেই আমেরিকায় ভারতীয়দের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা নিয়ে আক্রমণের মুখে পড়েছে সরকার। সংসদের বাইরে ধর্না দিয়েছে তৃণমূল। লোকসভার ভিতরে বিভিন্ন বিরোধী দল জানতে চেয়েছে, নরেন্দ্র মোদী তথা সরকার মুখ বুজে রয়েছে কেন? চাপের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে এই নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ বিবৃতি দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যেই কানসাসের গভর্নর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন মোদীকে। শ্রীনিবাস কুচিভোটলা-হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে ওই চিঠিতে দুঃখপ্রকাশ করে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, শীঘ্রই খুনির শাস্তি হবে। এই ধরনের জাতিবিদ্বেষের ঘটনা রুখতে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারও করা হয়েছে। মার্কিন অর্থনীতিতে কুচিভোটলার মতো পেশাদাররা যে ইতিবাচক ভূমিকা নিচ্ছেন, সে কথাও মোদীকে জানিয়েছেন কানসাসের গভর্নর। বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুও মনে করেন, এইচ১বি ভিসা নীতির বদল হলে ভারতীয় পেশাদারদের হয়তো কিছুটা অসুবিধে হবে। কিন্তু সেই অসুবিধে সাময়িক। অনেক বেশি ক্ষতি হবে আমেরিকার।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গোপাল ওয়াগলে আজ জানিয়েছেন, ‘‘মার্কিন কর্তারা আমাদের বারবার বলছেন, এই জাতিবিদ্বেষ সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিন নাগরিকের মানসিকতার প্রতিফলন নয়। এই ধরনের অপরাধের নিন্দা হচ্ছে সে দেশ জুড়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক শীর্ষকর্তাও জানিয়েছেন যে, ভারতীয়রা আমেরিকায় স্বাগত।’’

প্রমীলা জয়পাল, রাজা কৃষ্ণমূর্তি, রো খন্না-র মতো মার্কিন কংগ্রেসের চার-পাঁচ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন ভারতীয় কূটনৈতিকরা। ইন্দো-আমেরিকান চেম্বার অব কর্মাসের প্রধান আনন্দ দেশাইকে অনুরোধ করা হয়েছে, মার্কিন অর্থনীতিতে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের ভূমিকা নির্ণয় করতে।