গত শুক্রবার ব্রিসবেনের এক শপিং মলের সামনে বাসটি থামতেই পঞ্জাবি চালককে লক্ষ করে কেউ কিছু ছোড়েন। আগুন ধরে যায় চালকের গায়ে। ধরাও পড়েন অভিযুক্ত। তবে আজ ব্রিসবেনের প্রশাসন জানিয়েছে, ৪৮ বছর বয়সি সেই অভিযুক্ত কিছু দিন আগেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। চিকিৎসাও চলছিল তাঁর।

আর পাঁচটা দিনের মতো সে দিনও মুরভেল শপিং মলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল বাসটা। ভিতরে জনা ছয়েক যাত্রী। আর শপিং মলের বাসস্ট্যান্ড থেকে ওঠার কথা আরও তিন জনের। পুলিশ জানিয়েছে, ঠিক তখনই চালকের দিকে কেউ কোনও একটি ‘দাহ্য বস্তু’ ছোড়েন। চোখের নিমেষই গায়ে আগুন ধরে যায় চালকের আসনে বসা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মনমিত আলিশরের। শুধু বাস চালানো নয়, ওই এলাকার পঞ্জাবি সম্প্রদায়ের এক পছন্দের গায়কও ছিলেন মনমিত। ঘটনাস্থলেই আলিশরের মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে ঢুকে যাওয়ার কারণে কোনও কোনও যাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় তখনই অভিযুক্তকে ধরেছে পুলিশ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ জানিয়েছেন, কিছু দিন আগেই কুইনসল্যান্ড মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই অভিযুক্ত। তবে তখন তাঁর ঠিক কী চিকিৎসা হয়েছিল, এ সব বিষয়ে ফরেন্সিক দল বিশেষ তদন্ত করবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এবং সেই তদন্তের যাবতীয় ফলাফল প্রকাশ্যে আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।

শনিবারই বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ টুইটারে জানান, অস্ট্রেলীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে যাওয়া হবে। আর রবিবারই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকে বিষয়টি নিয়ে ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আলিশরের দেহ নিতে কালই ব্রিসবেন পৌঁছন তাঁর ভাই অমিত। তবে তিনি বলেন, ‘‘ও (মনমিত) যে মারা গিয়েছে সেটা মা-বাবাকে এখনও বলিনি। বলেছি দুর্ঘটনা হয়েছে। মনমিত কোমায়।’’