ফের প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে ফাঁসি দিল ইরান। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ছিল। আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করতেই ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হল, প্রকাশ্যে। খুনের ঘটনা যেখানে ঘটেছিল, ঠিক সেই জায়গাতেই এনে ওই ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (ইরনা)’ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম হামিদ রেজা দেরাখশন্দে। গত ২৯ মে ফারস প্রদেশের কাজেরুন শহরের দক্ষিণে তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের এক ইমামকে খুন করেন। রমজানের প্রার্থনা সেরে ওই দিন বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মহম্মদ খোরসান্দ। সেই সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁকে কোপায় হামিদ। তাতেই মৃত্যু হয় মহম্মদ খোরসান্দের। হামিদকে পরে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মসজিদে শুক্রবারের নমাজের দায়িত্বেও ছিলেন মহম্মদ খোরসান্দ। এই পদে নিয়োগের দায়িত্বে রয়েছেন ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ আয়াতোল্লা সৈয়দ আলি হোসেইনি খামেনেই। গ্রেফতার হওয়ার পরেও বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত ছিলেন না হামিদ। তাঁকে সুপ্রিম কোর্টে তোলা হলে বিচারপতির সামনে হামিদ অপরাধ কবুল করে নেন। তার পরেই তাঁকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়।

আরও পড়ুন: আমরা জানি কী করতে হবে, ৩৭০ বিলোপ নিয়ে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের, মামলা সাংবিধানিক বেঞ্চে​

ইরানের আইন অনুযায়ী, নিহতের পরিবার চাইলে ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে খুনির সাজা মকুব করে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রেও সেই রাস্তা খোলা ছিল। কিন্তু ইমামের পরিবার তাতে রাজি না হওয়ায় হামিদকে ফাঁসি দেওয়া হয়। 

কিন্তু অপরাধ যতই গুরুতর হোক না কেন, এই ভাবে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়ার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে সে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের দাবি, ২০১৩ সালে হাসান রুহানি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৮০০ জনকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহেই বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের​

গত রবিবারই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশাদ শহরে এক মহিলাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়। হাসান রুহানি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরানে কমপক্ষে ১০০ মহিলাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সে দেশের ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স’ সংগঠনের মহিলা কমিটি।