দু’বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনভয়ের পাশ দিয়ে সাইকেল নিয়ে যেতে যেতে অশালীন ইঙ্গিত করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সময়ের ছবি তুলে নিয়েছিলেন ট্রাম্পের প্রচার দলেরই এক ফোটোগ্রাফার। যা ভাইরাল হয়। সে ‘অপরাধে’ চাকরি খোয়াতে হয়েছিল তাঁকে। 

কিন্তু এ বার ভার্জিনিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে তাঁকে জয়টাও এনে দিল সেই ছবিই। ভার্জিনিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে সেই তরুণী জুলি ব্রিস্কম্যান জিতে গিয়েছেন। ভার্জিনিয়ার লাউডন কাউন্টির অ্যালগংকিয়ান ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি হিসেবে সুপারভাইজার পদে জিতেছেন জুলি। শুধু ভার্জিনিয়া নয়, বিশেষজ্ঞদের নজরে ছিল কেনটাকি ও মিসিসিপিও।  ওয়াশিংটনে ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রস্তাব নিয়ে যখন হইচই তুঙ্গে, তখন এই তিন প্রদেশে তার কী প্রভাব পড়ছে, ট্রাম্পের জন্য সমর্থন কতটা জোরালো, এবং ডেমোক্র্যাটরা শহরতলিতে কতটা জমি শক্ত করছে— দেখার ছিল সবই। ভার্জিনিয়ায় আইনসভার দুই কক্ষে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। কেনটাকিতেও এক ছবি। রিপাবলিকান গভর্নর ম্যাট বেভিনকে সরিয়ে জয়ের হাসি হেসেছেন ডেমোক্র্যাটিক অ্যান্ডি বেশের। ট্রাম্পকে একমাত্র ভরসা জুগিয়েছে মিসিসিপি। সেখানে গভর্নর পদে জিতেছেন রিপাবলিকান টেট রিভস।

তবে শিরোনামে এখন জুলি ব্রিস্কম্যান। দু’বছর আগেকার সেই অক্টোবরে ভার্জিনিয়ার স্টারলিংয়ের গল্ফ কোর্স থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরছিলেন ট্রাম্প। কনভয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে জুলি অশালীন ইঙ্গিত করে চলে যান। ভোটে নামার আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে জুলি টুইট করেন সেই ছবিটিই। সঙ্গে লিখেছিলেন, ‘‘আজ আমি লাউডন কাউন্টির স্থানীয় অফিসে লড়ব বলে মনোনয়ন জমা দিচ্ছি। প্রশাসনে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। পরিবর্তন চাই।’’ জুলিকে নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার পরে একটি মার্কিন দৈনিক তাঁর ওই বিতর্কিত ছবি-সহ প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিল। জুলি প্রচারমূলক টুইটে সেই প্রতিবেদনটিও জুড়ে দিয়েছিলেন। 

সেই সময়ে সাক্ষাৎকারে জুলি বলেছিলেন, তিনি ওই ধরনের ইঙ্গিত করে অভ্যস্ত নন একেবারেই। কিন্তু ট্রাম্পকে নিয়ে তাঁর ভাবনা গোপন করারও কোনও জায়গা নেই। জুলির বক্তব্য ছিল, ‘‘স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ভিতর থেকে অকেজো করে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। লাস ভেগাসে ৫০০ মানুষকে গুলি করা হয়েছে। উনি সে সব নিয়ে কিছুই করছেন না। শ্বেতাঙ্গ-আধিপত্যের প্রচারে বিশাল মিছিল হচ্ছে আর শার্লটসভিলে সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে। এ সব নিয়ে যা ভাবি, সে দিনের ইঙ্গিতে সেটাই ধরা পড়েছিল।’’ ওই ছবির জেরে চাকরি গিয়েছিল জুলির। ২০১৮ সালের এপ্রিলে তিনি অবশ্য নিজের অফিসের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। 

ডেমোক্র্যাট জুলির বিরুদ্ধে এ বার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন রিপাবলিকান সুজেন ভোলপ। এমনিতে ভার্জিনিয়া ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু লাউডন কাউন্টির সুপারভাইজার বোর্ডে রিপাবলিকানরা আছেন ৬-৩ অনুপাতে। এই কাউন্টি থেকে গত ৪০ বছর ধরে তাঁরা প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন মার্কিন কংগ্রেসে। এ বার জুলির জয় তাই ডেমোক্র্যাট শিবিরকে আরও মজবুত করল। 

দুই সন্তানকে একা মানুষ করছেন জুলি। ভোটের আগে অর্থ জোগাড়ে তৈরি ‘গোফান্ডমিপেজ’-এ ওঠে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ডলার। জয়ের পরে জুলি বলেছেন, ‘‘দু’বছর আগে কাজ হারাই ট্রাম্পের জন্য। অ্যালগংকিয়ান-এর প্রতিবেশীদের ধন্যবাদ, সেই ট্রাম্পকেই ফিরিয়ে দেওয়ায়। লড়াইটা কঠিন ছিল। এ বার এমন একটা কাউন্টি তৈরি করব, যা সবার জন্য কাজ করবে।’’