প্রাক্তন স্বামী ও প্রেমিকের মেয়েকে খুন করতে ভাড়াটে গুন্ডা লাগায় নিউ ইয়র্কের ভালেরি সিনসিনেলি। চক্রান্তে শামিল করে প্রেমিককেও। ছক মতো যথাসময়ে খুন হন স্বামী। পুলিশ নিহত স্বামীর ছবি দেখিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে যায়। ভীত ভালেরি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে সাবধান করে প্রেমিককে।

গত সপ্তাহে গ্রেফতার হয় পেশায় পুলিশ ৩৪ বছরের ভালেরি। এফবিআই জানায়, যে প্রেমিককে চক্রান্তে শামিল করে ভালেরি, গোয়েন্দাদের কাছে তিনিই সব ফাঁস
করেন। ভালেরিকে ধরতে ফাঁদ পাতে এফবিআই ও নিউ ইয়র্ক পুলিশ। শুক্রবার ভালেরিকে কোর্টে তোলা হলে জামিন অযোগ্য ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কোর্ট জানায়, প্রাক্তন স্বামী ও প্রেমিকের কিশোরী মেয়েকে খুনের ছক কষে ভালেরি। ভাড়াটে গুন্ডাকে ‘সুপারি’ দিতে ব্যাঙ্ক থেকে ৭ হাজার ডলার তোলে। প্রেমিককে দিয়ে তা সোনার মুদ্রায় বদলে নেয়। মে মাসের গোড়ায় প্রথমে স্বামীকে খুনের ফন্দি আঁটে। তার এক সপ্তাহ বা এক মাস বাদে দ্বিতীয় খুনের ছক। মেয়েকে খুনের কথা উঠতেই বেঁকে বসেন প্রেমিক। ভালেরিকে না জানিয়ে গোয়েন্দাদের দ্বারস্থ হন।

এর মাঝে একাধিক বার ফোনে বা সাক্ষাতে খুনের চক্রান্ত চলছিল। দেখা করার সময়ে শরীরে রেকর্ড-যন্ত্র লাগিয়ে রাখতেন ভালেরির প্রেমিক। ফোনেও সব রেকর্ড করতেন। কথা হয়, ওই ভালেরির স্বামী খুন হবেন লং আইল্যান্ডে, তাঁর অফিসের কাছে। নিউ জার্সিতে প্রেমিকের মেয়েকে দেখা গিয়েছে জেনে, গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয় অভিযুক্ত।

শুক্রবার পুলিশ ভালেরিকে জানায়, খুন হয়েছেন তার প্রাক্তন স্বামী। পুলিশ যেতেই ফোন যায় প্রেমিকের কাছে। জেরায় কী জবাব দিলে সন্দেহ হবে না তা নিয়ে প্রেমিকের পরামর্শ চায় ভালেরি। ইতিমধ্যে ভাড়াটে গুন্ডা পরিচয় দিয়ে প্রেমিককে মেসেজ করেন এক গোয়েন্দা। মেয়েকে খুনের জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ডলার চাওয়া হয়। প্রেমিককে সেটি মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় ভালেরি। আর এগোয়নি নাটক। যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ওই পুলিশকে হেফাজতে নেয় এফবিআই।