উঠল মলদ্বীপের জরুরি অবস্থা। তবে সূত্রের খবর, গতকালই বন্দি করা হয়েছে আরও বেশ কয়েক জন সরকার বিরোধীকে। জরুরি অবস্থা চলাকালীন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিনের বিরোধিতা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

গতকালই ইয়ামিন সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল যে আজ তুলে নেওয়া হবে জরুরি অবস্থা। তবে এখনই যে শান্ত হচ্ছে না পরিস্থিতি, তার ইঙ্গিতও স্পষ্ট। পিছু হটছেন না ইয়ামিন। বরং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গামুন ও প্রধান বিচারপতি আবদুল্লা সইদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনতে চলেছেন তিনি।

মলদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদ ও জেলবন্দি ৯ জন বিরোধী নেতাকে মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আর সে নিয়েই শীর্ষ আদালতের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন ইয়ামিন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বীপরাষ্ট্র জুড়ে ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন। এর ফলে সরকার বিরোধীদের গ্রেফতার ও আটক করার যাবতীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। তার পর থেকেই চলছে অবাধ ধরপাকড়। গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গামুনকে। গ্রেফতার করা হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আবদুল্লা সইদ ও বিচারপতি আলি হামিদকে।

কোনও কোনও সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, জরুরি অবস্থা চলাকালীন অন্তত ১৩৯ জন সরকার বিরোধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কায় মলদ্বীপের দূত মহম্মদ হুসেন শরিফ জানান, মাত্র ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।

প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে গৃহবন্দি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ইয়ামিন। পরে ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছেন নাশিদ। সেখান থেকেই ইয়ামিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে সংহত করতে চাইছেন। জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরে টুইটারে নাশিদ জানান, ইয়ামিন জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছেন। কারণ এই মুহূর্তে মলদ্বীপে তার আর দরকার নেই। তবে এখনই হার মানছেন না নাশিদ। বরং তাঁর কথায়, ‘‘লড়াই চলবে। আমরা লড়ব এবং জিতবও।’’