মধ্যরাত। ঘুমিয়ে পড়েছিল মেক্সিকোর সমুদ্র তীরবর্তী শহরগুলো। হঠাৎই কেঁপে উঠল মাটি।

মেক্সিকোর সিসমোলজিক সার্ভিস জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৪৯-এ কেঁপে ওঠে মেক্সিকোর দক্ষিণ উপকূল। ভূমিকম্পের উৎস ছিল চিয়াপাস রাজ্যের পিহিহিয়াপান শহরের ৮৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৮.২। এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। উপকূলবর্তী এলাকায় জারি করা হয়েছে সুনামির সতর্কতা।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কেন্দ্রের সদর দফতর থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন প্রেসিডেন্ট এনরিক পিনিয়া নিয়েতো। তাঁর কথায়, ‘‘গত ১০০ বছরে এত ভয়াবহ এবং তীব্র ভূমিকম্প দেখেনি আমাদের দেশ।’’ মেক্সিকো এমনিতেই ভূমিকম্প-প্রবণ। ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছিল মেক্সিকো সিটি। দশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তীব্রতার দিক থেকে সেই পরিসংখ্যানকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে এ বারের ভূমিকম্প। যদিও অনুমান, ক্ষতি তুলনায় কম হয়েছে।

কিন্তু ভূমিকম্পের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে দেশের একেবারে উত্তরে, উৎসস্থল থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে মেক্সিকো সিটিতেও ভাল মতো টের পাওয়া যায় কম্পন। চিয়াপাসে বাড়ি ভেঙে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। পড়শি রাজ্য তাবাসকো থেকে দু’টি শিশুর মৃত্যুর খবর মিলেছে। দেওয়াল চাপা পড়ে মারা গিয়েছেন এক জন। হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস চালানো হচ্ছিল শিশুটির। সব চেয়ে খারাপ অবস্থা জুচিতান শহরের। আপৎকালীন বিভাগের এক কর্তা রিকার্দো ডে লা ক্রুজ জানান, অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বন্ধ রাখা হয়েছে মেক্সিকো সিটি-সহ ১১টি রাজ্যের স্কুল।

২৮ বছরের ক্রিস্টিয়ান রদরিগেজ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বললেন, ‘‘হঠাৎই চারপাশ কাঁপতে থাকে। গাড়িটা মোচার খোলার মতো দুলছিল।’’ আতঙ্ক কাটছে না ৩১ বছরের তরুণী মায়ারো ওরতেগার। বলেন, ‘‘চোখের সামনে ট্রান্সফর্মারটা জ্বলে উঠল। রাস্তার আলোগুলো একবার জ্বলছে, একবার নিভছে। কী ভয়ঙ্কর!’’  ‘প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার’ সাবধান করেছে, ২.৩ ফুট ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে সমুদ্র সৈকতে। টেলিভিশনগুলোর দেখানো ছবিতে ধরা পড়েছে, সমুদ্র প্রায় ৫০ মিটার এগিয়ে এসেছে। প্রেসিডেন্ট নিয়েতো অবশ্য বলছেন, ‘‘আমরা সতর্ক আছি। ভয়ের কিছু নেই।’’