চর্চা চলছিল। তার রেশ ধরে দুশ্চিন্তাও। মার্কিন বিদেশসচিবের আসন্ন নয়াদিল্লি সফরে অবশ্য সেই দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে বলেই আশ্বাস দিচ্ছে ওয়াশিংটন। অর্থাৎ ভারতীয় নেতৃত্বকে মাইক পম্পেয়ো আশ্বাস দিতে পারেন যে, বার্ষিক বরাদ্দ মোট এইচ১বি ভিসার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশই ভারতীয়দের দেওয়া হবে— এমন কোনও নিয়ম ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চাপাবে না। গত শুক্রবার তেমনই বলেছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের এক কর্তা। 

মার্কিন আর্থিক সংস্থাগুলিকে অনলাইন লেনদেনের তথ্য স্থানীয় ভাবেই জমা রাখতে হবে বলে নিয়ম করেছে ভারত-সহ কিছু দেশ। তার পাল্টা হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ এইচ১বি ভিসার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছিল একটি সংবাদ সংস্থা। সেই প্রসঙ্গেই মার্কিন বিদেশ দফতরের ওই কর্তা টেলি-কনফারেন্সে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এইচ১বি প্রকল্পের আওতায় আসা ভারতীয়রা মার্কিন অর্থনীতিতে অবদান রেখেছেন। আমার মনে হয়, বিদেশসচিব ভারতীয় নেতৃত্বকে বোঝাতে সক্ষম হবেন যে, কিছু দেশের জন্য এমন ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা আমাদের নেই।’’ এইচ১বি ভিসার ৭০ শতাংশ উপভোক্তাই ভারতীয়, যাঁদের একটা বড় অংশ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। ওই মার্কিন কর্তা জানিয়েছেন, এইচ১বি ভিসা প্রকল্প নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা চলছে ঠিকই, কিন্তু ভারতকে নিশানা করা হচ্ছে, এমন ভাবার কারণ নেই। 

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের আবহে পম্পেয়োর সফর চলবে আগামী ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত। ওই কর্তার কথায়, ‘‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিদেশসচিব ঠিক কোন বিষয় তুলবেন, তা আমি বলতে পারব না। তবে অবশ্যই আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরানের উপরে চাপ বজায় রাখা এবং তাতে ভারতের সহযোগিতা। এইচ১বি প্রসঙ্গে বলতে পারি, ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আমরা প্রভূত গুরুত্ব দিচ্ছি। একই সঙ্গে (ইরানের) চাবাহার বন্দরকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও ভারতের সঙ্গে কথা চলছে। ওই বন্দরের মাধ্যমেই আফগানিস্তানে সাহায্য পাঠায় ভারত। আফগান অর্থনীতির পক্ষেও গুরুত্ব রয়েছে ওই বন্দরের।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।