ড্রোন ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের তরজা থামার লক্ষণ নেই। বরং উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে ইরানের নৌসেনার প্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে আজ বলেছেন, আমেরিকার আরও যে সব ‘গুপ্তচর’ ড্রোন রয়েছে, সেগুলোও নামানোর ক্ষমতা রাখে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজই আবার ইরানের উপর নতুন করে একগুচ্ছ আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছেন।

এর মধ্যেই মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেয়ো আজ দেখা করেছেন সৌদি আরবের রাজা এবং যুবরাজের সঙ্গে। ইরান-বিরোধী জোটের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করাই পম্পেয়োর লক্ষ্য।

আমেরিকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই পম্পেয়ো বলে যান, ‘‘ইরানের চাপের মুখে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মিত্রতা আমাদের ভরসা জোগাবে। কৌশলগত ভাবে আমরা কী ভাবে একসঙ্গে থাকতে পারি এবং বিশ্বজনীন জোট তৈরি করতে পারি, তা নিয়ে দু’দেশের সঙ্গেই কথা হবে।’’ 

সৌদি রাজা সলমনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরে পম্পেয়োকে তিনি বলেছেন, ‘‘আপনি আমাদের প্রিয় বন্ধু।’’ সৌদি আরবের সফর সেরে সোমবার রাতে পম্পেয়ো উড়ে যাবেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উদ্দেশে। তার আগে পম্পেয়ো সৌদি রাজা-যুবরাজকে বার্তা দিয়ে যান, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সদর্থক পথে আলোচনা না এগোলে ইরানকে অর্থনৈতিক ভাবে ‘একঘরে’ করা ছাড়া উপায় থাকবে না আমেরিকার। ট্রাম্পের গত কালের মন্তব্য অনুসরণ করে পম্পেয়ো বলেন, ‘‘আমরা আপস মীমাংসায় রাজি, কিন্তু পূর্বশর্ত দেওয়া চলবে না। ওরা জানে কোন পথে কথা বলা উচিত।’’ সোমবারই নয়া নিষেধ চাপিয়ে আমেরিকা আলোচনায় বাধ্য করতে চাইছে ইরানের নেতৃত্বকে। কিন্তু আলোচনায় যেতে তারা যে আগ্রহী নয়, স্পষ্ট করেছে ইরান। ইরানের তেল রফতানি প্রায় বন্ধ করতে ইতিমধ্যে মার্কিন নিষেধ অনেকটা কার্যকরও হয়েছে। কিন্তু এ সব নিষেধাজ্ঞায় পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি আজ বলেন, ‘‘আমাদের উপরে চাপানোর জন্য সম্প্রতি বা গত ৪০ বছরে আমেরিকার হাতে আর কোনও নিষেধাজ্ঞা বাকি আছে!’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।