হারানো বেড়াল খুঁজতে গিয়েছিলেন। খোঁজ মিলল কুমিরের!

ঘটনা আমেরিকার মিসিসিপির। গত মঙ্গলবার দুপুরে পাসকাগলা শহরের বাসিন্দা ব্রুক স্নো দেখেন, তাঁর পোষা বেড়ালটা বেপাত্তা। গোটা বাড়ি আতিপাতি করে খুঁজেও তার দেখা মিলছে না। অবশেষে বেড়ালের খোঁজে বাড়ির বাইরে পা রাখেন ব্রুক। শুরু হয় খোঁজ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সৎ-মেয়েও। কলম্বাস ড্রাইভের আশপাশের রাস্তা-ঝোপঝাড় ছাড়াও নর্দমাতেও চোখ ঘোরাতে থাকেন ব্রুক। যদি বেড়ালটা তাতে পড়ে গিয়ে থাকে!

এ ভাবেই পাড়ার একটি নর্দমার কাছে গিয়ে তার ভিতরে নজর দিতেই তো ব্রুকের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! সেখানে থেকে উঁকি মারছে একটি কুমির। প্রথমটায় নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ব্রুক।  থতমত খেয়ে যান। এর পর ফের নর্দমার ভিতর তাকান। পরের বারও একই দৃশ্য। একটা বড়সড় কুমিরই বটে! “এর পর আমার মোবাইল ফোন বার করে ওই কুমিরটার ছবি তুলতে শুরু করি।” স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এমনটাই বলেছেন ব্রুক।

(আজকের তারিখে গুরুত্বপূর্ণ কী কী ঘটেছিল অতীতে, তারই কয়েক ঝলক দেখতে ক্লিক করুন— ফিরে দেখা এই দিন।)

তবে শুধু ছবি তুলেই থেমে থাকেননি ব্রুক। খবরও দিয়েছেন অ্যানিম্যাল কন্ট্রোল অফিসারদের।  ব্রুকের ফোন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে হাজির হন তাঁরা।  তবে কুমিরের সাইজ দেখে তাঁরা মিসিসিপির বন দফতরকে খবর দেন। মিসিসিপির ওয়াইল্ড লাইফ, ফিশারিজ অ্যান্ড পার্কস দফতরের কর্মীরা এ বিষয়ে খুবই দক্ষ। কোনও বন্যপ্রাণী লোকালয়ে এসে পড়লে তাদের ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান তিনি।

আরও পড়ুন: পৃথিবীর সব থেকে দামি বিচ্ছেদ! ৪.২ লক্ষ কোটি টাকা খোরপোশ দিচ্ছেন আমাজন মালিক

নর্দমার ঝাঝরি খুলে তাঁরাই একটা আঁকশি আর দড়ি দিয়ে কুমিরটাকে বাইরে বার করে আনার চেষ্টা শুরু করেন। তিন জন কর্মী মিলে কুমিরটাকে নর্দমা থেকে টেনে তুলতে শুরু করেন।  এক জন আঁকশি দিয়ে কুমিরটিকে নর্দমা থেকে সামান্য টেনে উপরে তোলেন। দেখা যায়, তা প্রায় সাত ফুট লম্বা।  উপরে টেনে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই অন্য জন কুমিরের বিশাল হা-করা মুখে একটি দড়ির ফাঁস পরিয়ে দেন। আঁকশি দিয়েই তাকে টেনে বার করা হয় নর্দমার বাইরে। এর পর নাছোড়বান্দা কুমিরের পিঠে চেপে বসেন এক জন। এ বার কুমিরের মুখে টেপ বেঁধে দেন অন্য জন।  শেষমেশ তাকে ওই এলাকা থেকে নিয়ে গিয়ে একটি জলাভূমিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ১০ দিনে ১ লক্ষ ৩০ হাজার অ্যাকাউন্ট ব্লক করল হোয়াটসঅ্যাপ

গোটা ঘটনাটাই মঙ্গলবার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ব্রুকের এক পড়শি মিশেল এম স্মিথ। তাতে আপাতত শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।  ইতিমধ্যেই মিশেলের ওই পোস্টটি শেয়ার করেছেন ১,১৬৪ জন। আর পোস্টটি দেখেছেন ৭৭,৮২৩ জন। মিশেলের মতোই এই ভিডিয়োটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন শহর কর্তৃপক্ষ। 

(আন্তর্জাতিক স্তরের বাছাই করা ঘটনাগুলো নিয়েবাংলায় খবরজানতে পড়ুন আমাদেরআন্তর্জাতিকবিভাগ।)