শারীরিক অসুস্থতার কারণেই দুর্নীতি মামলায় জামিন মিলেছে। কিন্তু, নো-ফ্লাই তালিকা থেকে নাম মোছেনি পাকিস্তান সরকার। ফলে, রবিবার চিকিৎসার জন্য লন্ডন যেতে পারলেন না প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ

গত কয়েকদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ৬৯ বছর বয়সী নওয়াজ শরিফ। চিকিৎসকের কথায় ও পরিবারের অনুরোধে গত শুক্রবার দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে সম্মত হন তিনি। তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো রবিবার সকালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের বিমানে তাঁর লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে তা হয়ে ওঠে‌নি।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নো-ফ্লাই তালিকায় এখনও নওয়াজ শরিফের নাম রয়েছে। পাক প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘ওই তালিকা থেকে নাম সরানোর ক্ষমতা রয়েছে এক মাত্র ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি বুরোর (এনএবি) চেয়ারম্যানের। কিন্তু, তিনি না থাকায় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া যায়নি।’’ নওয়াজের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রও এনএবি চেয়ে পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: সকালেই মমতাকে ফোন মোদীর, আলোচনা বুলবুল নিয়ে, দিলেন সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

আল আজিজিয়া স্টিল মিলস দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত শরিফকে ২০১৮ সালে সাত বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই থেকেই তিনি লাহৌরের কোট লাখপত জেলে বন্দি ছিলেন। চলতি মাসের গোড়ায় তাঁকে চৌধরি সুগার মিলস মামলায় হেফাজতে নেয় এনএবি। কিন্তু, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁর জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবীরা। লাহৌর হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করলেও  তাঁর দেশের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। আর তাতেই চরম বিপাকে পড়েছেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী। পাক প্রশাসন সূত্রে খবর, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নওয়াজের বিষয়টি দেখা হতে পারে। ফলে রবিবার না হলেও সোমবার লন্ডনের বিমান ধরার ছাড়পত্র পেতে পারেন তিনি। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিশেষ সচিব ফিরদৌস আশিক খানের কথায়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে রাজনীতি ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়কে সম্পূর্ণ আলাদা করেই দেখা হবে।

আরও পড়ুন: অযোধ্যা রায় নিয়ে পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায়, যোগীর রাজ্যে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর

গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ নওয়াজ। তাঁর রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণ অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। কমে যায় রক্তে শর্করার মাত্রাও। পাশাপাশি, তাঁর রক্তচাপেরও সমস্যাও দেখা দেয়। একটি মাইনর হার্ট অ্যাটাকের ফলে বিপদ আরও বেড়ে যায়। তাঁকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।