বিরোধীরা হ্যাকিং আর ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিল আগেই। সেই সুরে এ বার বেঁকে বসল কেনিয়ার সুপ্রিম কোর্টও। গত মাসের প্রেসি়ডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আজ খারিজ করে দিয়ে ঐতিহাসিক এক রায়ে দেশে ফের ভোটের ডাক দিল শীর্ষ আদালত। সরাসরি ভোট-লুঠের দিকে আঙুল না তুললেও, কোর্টের বক্তব্য— আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোট করাতে ব্যর্থ দেশের নির্বাচন কমিশন। তাই ভোটের ফলও আর বৈধ নয়। ৬০ দিনের মধ্যে ফের ভোটের নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট।

ভোট হয়েছিল গত ৮ অগস্ট। বিরোধী দলনেতা বছর বাহাত্তরের রাইলা ওডিঙ্গাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েই দ্বিতীয় বারের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন উহুরু মুইগাই কেনিয়াট্টা (৫৫)। কিন্তু সেই ভোটে  ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে গোড়াতেই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ওডিঙ্গা-শিবির। আজ সুপ্রিম কোর্টের রায় কেনিয়াট্টার বিপক্ষে যাওয়ায় তাই আদালত চত্বর থেকেই উৎসবে মাতেন ওডিঙ্গা-সমর্থকেরা। বিজয়মিছিল শুরু হয়ে যায় নাইরোবির বস্তিতেও। ওডিঙ্গার দাবি, ‘‘শুধু কেনিয়া নয় গোটা আফ্রিকা মহাদেশের কাছেই আজ এক ঐতিহাসিক দিন।’’ ভোটগণনার পরে নির্বাচন কমিশন কেনিয়াট্টাকে প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করেছিল। শুনানির গো়ড়ায় বিষয়টিকে সরকারি ভাবে ‘গণনার ভুল’ বলা হলেও মানতে চাননি ওডিঙ্গা। আজ নির্বাচনী কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

২০০৭ এবং ২০১৩-র ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন ওডিঙ্গা। ২০০৭-এ বিতর্কিত ভোটের ফল বেরোনোর পরেই ধুন্ধুমার বেঁধে যায় গোটা দেশে। হিংসার বলি হন প্রায় হাজারখানেক। ২০১৩-র ফল নিয়ে কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও হেরে যায় ন্যাশনাল সুপার অ্যালায়েন্স। এ বার ঠিক সেই কারণেই গোড়ায় আদালতে যাওয়ার কথা ভাবেননি ওডিঙ্গা।

আজ আদালতের রায়ে নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা হওয়ায় এই বাহাত্তরেও নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।