শুধু হানা মোকাবিলা নয়, গোটা বিশ্বেই গবেষকেরা এখন খুঁজে বেড়াচ্ছেন ‘ওয়ানাক্রাই’-এর উৎস। তাঁদের একটি অংশ আঙুল তুলছেন কিম জং-উনের উত্তর কোরিয়ার দিকে। তাঁদের বক্তব্য ওই ভাইরাসের কোড ও কিমের দেশের হ্যাকারদের গোষ্ঠী ‘ল্যাজারাস’-এর ভাইরাসের কোডের ধরনধারণের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। বিষয়টি প্রথম নজরে এনেছেন গুগলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত গবেষক নীল মেহতা।

তবে ‘ওয়ানাক্রাই’-এর পিছনে যে উত্তর কোরিয়াই, এ কথা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সে দেশের ‘ল্যাজারাস’ গোষ্ঠীর অনুরূপ ভাইরাস ২০১৪ সালে সোনি পিকচারস এন্টারটেনমন্ট সংস্থাকে বিপাকে ফেলছিল। গত বছর তারা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ বারের হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হলেও চিন বা রাশিয়া কিন্তু এখনই উত্তর কোরিয়ার দিকে আঙুল তুলতে নারাজ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই দুষেছেন আমেরিকাকে। এখন রাশিয়া-চিন, উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের বলছেন, উত্তর কোরিয়াকে বিপাকে ফেলতে বা কুকীর্তির দায় তাদের ঘাড়ে চাপানোর জন্যেও সুকৌশলে সে দেশের হ্যাকারদের কোডের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে ‘ওয়ানাক্রাই’-এর কোড।

ইউরোপের অন্য বিশেষজ্ঞেরাও বলছেন, নীল মেহতার পর্যবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও সুনিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অ্যালান উডওয়ার্ড যেমন জানাচ্ছেন, হামলার প্রথম দিকেই চিনের বহু কম্পিউটার অকেজো হয়েছিল। ‘ওয়ানাক্রাই’ ভাইরাসের প্রথম দিকের হুমকি-বার্তায় সময় দেখাচ্ছে চিনের। মনে হচ্ছে, চিনা ভাষায় হুমকিটি কোনও চিনাভাষীর লেখা এবং এর ইংরেজি বয়ানটি অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ করা। এই সব থেকেই প্রশ্ন উঠে আসছে, হ্যাকাররা উত্তর কোরিয়ার হলে তারা কি মিত্র দেশ চিনকে চটাতে চাইবে?