দু’দেশের সম্পর্কের তিক্ততা দীর্ঘ দিনের। সৌদি আরবের তেল ভাণ্ডারে ড্রোন হামলার পরে সম্পর্কের সেই টানাপড়েন আরও বেড়েছে। গত কাল হামলার দায় সরাসরি ইরানের উপরেই চাপিয়েছিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেয়ো। যে দাবি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই খারিজ করে দেয় ইরানের বিদেশ মন্ত্রক। এ বার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শক্তির মুখপাত্রও দাবি করলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, গত পরশুর ওই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ইরান থেকেই এসেছিল।

পম্পেয়োর পরে গত কাল ইরানের নাম না নিয়ে একটি টুইট করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়েছিলেন, আমেরিকা জানে, আসল অপরাধী কে। কিন্তু সেই সঙ্গে ট্রাম্প এটাও জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব সরকার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে কারও নাম প্রকাশ্যে না আনা পর্যন্ত তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশি এগোতে চান না। যদিও ‘অপরাধী দেশে’র বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান করতে যে আমেরিকা প্রস্তুত, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প। ইরান সরকার ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওড়ালেও সৌদি আরব, আমেরিকা এবং ইয়েমেনের জোট কিন্তু তাদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে। 

রিয়াধে জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি-আল-মালকি আজ বলেছেন, ‘‘হুথি জঙ্গিরা যে দাবি করেছিল, তা সত্যি নয়। ইয়েমেন থেকে ওই হামলা করা হয়নি। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র যে ইরান থেকে এসেছিল, তা এক প্রকার নিশ্চিত। তবে কোথা থেকে হামলাটি হয়েছে, সেটা এখনও জানা যায়নি।’’ 

গোটা বিষয়টিতে ইরানের নাম জড়ানোয় আজ তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। বেজিংয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আজ স্পষ্টই বলেছেন, ‘‘যথাযথ তদন্ত রিপোর্ট ও প্রমাণ ছাড়া এ ভাবে কোনও দেশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ঠিক নয় বলেই মনে করে বেজিং।’’

হুথি জঙ্গিরা অবশ্য তাদের দাবিতে আজও অনড়। আমেরিকা বা সৌদি আরব যা দাবিই করুক না কেন, ওই হামলা যে তারাই করেছে, তা ফের স্পষ্ট করেছে জঙ্গিদের এক প্রতিনিধি। সেই সঙ্গেই তাদের হুঁশিয়ারি, সৌদি আরবে এই ধরনের হামলা আরও হবে।

ভারত সরকার গত শনিবারের হামলার কড়া নিন্দা করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার আজ একটি বার্তায় বলেছেন, ‘‘বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে যে কোনও ধরনের জঙ্গি হামলা রুখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ 

এর মধ্যেই আজ আবার কুয়েত সরকার জানিয়েছে, সৌদি তেল ভাণ্ডারে হামলার দিনেই তাদের রাজপ্রাসাদের উপর দিয়ে একটি ড্রোন উড়ে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছে।