বাংলাদেশ শুধু ১৬ কোটি মানুষের লোভনীয় বাজার নয়। মজবুত অর্থনীতির জোরে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যও। যার গা ঘেঁষে রয়েছে চিনের মতো বিশাল আর্থিক শক্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের ৪৮ ঘণ্টা আগে বক্তৃতায় কার্যত এই বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া ইকনমিক সামিট’-এ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ শুধু তার নিজস্ব ১৬ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের বাজার নয়। তার ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, এই দেশ হয়ে উঠতে পারে ৩০০ কোটি মানুষের বিপুল বাজারের সংযোগস্থল। আর এই ভূ-কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়েই চিনের অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অনেকে বলছেন, বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ যে স্বাগত, সেই বার্তা এ দিনের বক্তৃতায় হাসিনা দিয়েছেন। কিন্তু দিল্লি জানে, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও আর্থিক প্রভাব বৃদ্ধির প্রবল চেষ্টা চালাচ্ছে বেজিং। উৎসাহ দেখাচ্ছে পরিকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে। তাই তাঁদের মতে, এ দিন সরাসরি সেই কথা ‘না বলেও’ তা মনে করালেন পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রী। সম্ভবত বার্তা দিয়ে রাখতে চেয়েছেন, সম্ভাবনাময় বাজার, লগ্নিবান্ধব পরিবেশ, প্রযুক্তিতে উন্নতি ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশকে লগ্নির লক্ষ্য হিসেবে বাছতেই পারে ভারতীয় সংস্থাগুলো। সে ক্ষেত্রে তারা স্বাগত। না-হলে, অপেক্ষায় আছে বেজিংও।