গোলাপি টাই, পাগড়ি আর গাঢ় নীল স্যুটে ধোপদুরস্ত। ওয়াঘা হয়ে আজই লাহৌরে পৌঁছে গিয়েছেন নভজ্যোৎ সিংহ সিধু। এ বার গন্তব্য ইসলামাবাদ। ইমরান খান যে কালই পাক প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন সেখানে! বাইশ গজের বন্ধুর জন্য কাশ্মীরি শালও এনেছেন সিধু। সঙ্গে শুভেচ্ছা। পড়শির মাটিতে পা দিয়েই তাই সাংবাদিকদের বললেন, ‘‘দুর্বলতাকে ইমরান কী ভাবে নিজের শক্তিতে বদলে ফেলেন, খেলার মাঠে সেটা খুব কাছ থেকে দেখেছি। কাপ্তান এ বার রাজনীতির ময়দানেও নিজের খেল দেখাবেন।’’ ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তান সমৃদ্ধির শিখরে উঠবে বলেও মনে করেন সিধু।

কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কী হবে! ভারত-পাক শান্তি প্রচেষ্টায় সদ্যপ্রয়াত অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবদান স্মরণ করে তাঁকেই উদ্ধৃত করে সিধু বলেন, ‘‘পড়শির ঘরে আগুন লাগলে, তার আঁচ লাগে আমারও।’’ তাই, ‘হিন্দুস্তান জিবে, পাকিস্তান জিবে’— স্লোগান দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার। দিল্লিতে বাজপেয়ীকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পরে আজ ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও দেখা করেন পাক আইনমন্ত্রী সৈয়দ আলি জ়াফর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাক বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র এবং দক্ষিণ এশীয় বিভাগের কর্তাও। দ্বিপাক্ষিক সৌজন্যমূলক কূটনীতির ক্ষেত্রে একেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নয়াদিল্লির একাংশ।

ভোটে পাকিস্তানের একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছিল ইমরানের দল পিটিআই। তবু পার্লামেন্টে ‘জাদু সংখ্যা’ (১৭২) পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা ছিলই। আজ তা-ও সাফ হয়ে গেল বিকেলে। বিরোধীদের তরফে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ় শরিফের দল পিএমএল-এন শাহবাজ় শরিফের নাম পেশ করলেও,  ইমরান-ঝড়ে সেই মনোনয়ন টিকল না। দু’-একটা ছোট দলকে সঙ্গে নিয়ে ৩৪২ সদস্যের পার্লামেন্টে ১৭৬টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জুটিয়ে ফেললেন ইমরান।

পিপিপি আজ শাহবাজ়কে সমর্থন জানাতে অস্বীকার করে। তাঁদের ৫৪ জন আজ ভোট দিতেও বেঁকে বসেন। তাই কার্যত নিয়মরক্ষার ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকান অলরাউন্ডার ইমরান।

তবে আসল ম্যাচ কাল থেকেই শুরু হচ্ছে বলে মনে করছেন পাক কূটনীতিকদের একটা বড় অংশ। আগামী দিনে ইমরান পাকিস্তানের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হয়ে উঠবেন বলেও আশঙ্কা অনেকের। এ দিকে ঘটনাচক্রে, আজই পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা পিপিপি-র সহ-সভাপতি আসিফ আলি জ়ারদারি-সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলায় জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে করাচির কোর্ট। এই পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বিরোধীদের অবস্থানই বা কী দাঁড়াবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ভোটে জেতার পর-পরই কাশ্মীর প্রসঙ্গে ‘দোস্তি’র ইঙ্গিত দিয়ে ইমরান বলেছিলেন, ‘‘ভারত এক কদম এগোলে, আমরা এগোব দু’দকম।’’ ইমরানের আমন্ত্রণ রক্ষা করেই আজ সীমান্ত পেরোলেন সিধু। সঙ্গে কাশ্মীরি শাল! এ বার পাল্টা উপহার দেওয়ার পালা ইমরানের।