হয় ব্যাঙ্ক সত্যি বলছে, না হলে প্রধানমন্ত্রী— এ কথা বলে আজ নরেন্দ্র মোদীকে খোঁচা দিলেন পলাতক শিল্পপতি বিজয় মাল্য। 

প্রায় ন’হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপের দায়ে অভিযুক্ত মাল্য। অভিযোগ, তাঁর বিমান সংস্থা ‘কিংফিশার’-এর জন্য একাধিক ব্যাঙ্কের থেকে ঋণ নিয়ে, সেই টাকা না মিটিয়ে তিনি বিদেশে পালিয়ে যান। সেই নিয়ে প্রত্যর্পণ মামলা চলছে ব্রিটেনের কোর্টে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মোদী দাবি করেছিলেন, ব্যাঙ্কে যে পরিমাণ অর্থ ঋণ রয়েছে মাল্যের, তার থেকে বেশি পরিমাণ অর্থ ওই শিল্পপতির কাছ থেকে উদ্ধার করেছে সরকার। মাল্যের দাবি, তাই যদি হয়, লন্ডনের কোর্টে কেন অন্য কথা বলছে ব্যাঙ্কগুলো। 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘বিজয় মাল্য ব্যাঙ্কের কাছে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার বিশ্বজুড়ে তাঁর ১৪ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।’’ মাল্য তখনও বলেছিলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর সরকার ব্যাঙ্কের কাছে আমার ঋণের থেকেও বেশি অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছেন। এই মন্তব্যই আমাকে অপবাদমুক্ত করেছে।’’

মাল্য আজ টুইট করেছেন, ‘‘আর কেউ নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বলেছেন, আমার থেকে সরকারি ব্যাঙ্কগুলোর যে পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে, তার থেকে বেশি অর্থ সরকার উদ্ধার করেছে। কিন্তু ওই ব্যাঙ্কগুলো ব্রিটেনের আদালতে অন্য কথা বলেছে। কাকে বিশ্বাস করবেন? কোনও এক জন নিশ্চয় মিথ্যে কথা বলছে।’’

অর্থাভাবে বুধবার সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জেট এয়ারওয়েজের পরিষেবা। তার ঠিক এক দিন পরেই বিজয় মাল্যের এই মন্তব্য। দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও রকম সাহায্য না করার জন্য টুইটারে দুঃখপ্রকাশ করেছেন মাল্য। লিখেছেন, ‘‘যদিও আমরা একে অন্যের প্রতিযোগী ছিলাম, কিন্তু জেট এয়ারওয়েজের প্রতিষ্ঠাতা নরেশ ও নীতা গয়ালের জন্য আমার সহানুভূতি রয়েছে। ওদের জন্য দেশের গর্ব হওয়া উচিত ছিল। গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দিয়েছে ওরা। দুঃখের, বিমান সংস্থাগুলো আর রইল না। কেন?’’