বন্দুক সন্ত্রাস নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছিল বছর তেরোর কিশোরীটি। সেই প্রবন্ধ মন জয় করেছিল সকলের। জিতে নিয়েছিল পুরস্কারও। যে বন্দুক সন্ত্রাস নিয়ে প্রবন্ধ লিখে সকলের প্রশংসা কুড়েছিল সে, সেই বন্দুকের একটা গুলিই মুহূর্তে প্রাণ ছিনিয়ে নিল তার।

স্যান্ড্রা পার্কস। আমেরিকার উইসকনসিনের মিলাউকির বাসিন্দা। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই সে বন্দুক, গুলির আওয়াজ, হিংসা প্রতিনিয়ত দেখে এসেছে। বন্দুকের গুলিতে যখন কোনও নিরাপরাধ শিশুর মৃত্যু হত, সেই ঘটনা তার কানে এলেই মুষড়ে পড়ত।

ছোট্ট এই শহরটিতে হিংসা আর বন্দুকের নলই যেন সর্বক্ষণ শাসন করে বেড়ায়। বন্দুকের সন্ত্রাস তার ভাল লাগত না। বাড়িতে সে কথা বার বার বলত। সব সময় ভাবত কী ভাবে এই সন্ত্রাস বন্ধ হবে। তার পক্ষে কীকরা সম্ভব! ছোট মেয়ে। কী-ই বা করবে সে। তাই তুলে নিয়েছিল কলম। ডঃ মার্টিন লুথার কিং রাইটিং প্রতিযোগিতায় প্রবন্ধ লিখেছিল বন্দুকের সন্ত্রাস নিয়ে। সালটা ২০১৬। স্যান্ড্রা তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

আরও পড়ুন: ব্রিটেনের রানির থেকেও বেশি সম্পদ রয়েছে এই মহিলার!

স্যান্ড্রা লিখেছিল, ‘মাঝে মাঝে মনে হত, এ সব সন্ত্রাস থেকে বহু দূরে পালিয়ে যাই। হেডফোনটা কানে গুঁজে গান শুনতে শুনতে জীবন সম্পর্কে ভাবতাম। জীবন কী, এর অর্থ খোঁজার চেষ্টা করতাম। কিন্তু ঘুরে ফিরে সেই একই জায়গায় এসে থেমে যেত চিন্তাভাবনাটা…আমরা নৈরাজ্যের মধ্যে বাস করছি। যেখানে বন্দুকের গুলি কেড়ে নিচ্ছে বহু শিশুর প্রাণ….’

সেই প্রবন্ধ লেখার দু’বছর পরে সম্প্রতি পুরস্কারটা জিতেছিল স্যান্ড্রা। কিন্তু জানত না, অন্য শিশুদের মতো তার জন্যও একটা গুলি অপেক্ষা করছিল! গত ১৯ নভেম্বর নিজের বাড়িতে বসে টিভি দেখছিল স্যান্ড্রা। বাড়ির জানলা দিয়ে হঠাত্ই একটা গুলি এসে তার বুক ফুঁড়ে দেয়। গল গল করে রক্ত বেরোচ্ছিল। সেই অবস্থায় বুকটা হাত দিয়ে চেপে ধরে স্যান্ড্রা মায়ের কাছে গিয়ে বলেছিল, ‘মা, আমার গুলি লেগেছে।’ ওটাই ছিল তাঁর শেষ কথা। তার পরই ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে স্যান্ড্রা। বাইরে গুলির লড়াই চলছিল।  পুলিশ জানিয়েছে, তারই একটা এসে স্যান্ড্রার বুকে লাগে।

আরও পড়ুন: তরবারি নিয়ে ডাকাতদের হাত থেকে দোকান রক্ষা করলেন কর্মচারিরা

স্যান্ড্রা আরও লিখেছিল, আমাদের একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার। সবার প্রথম বুঝতে হবে এটা। যখন আমরা একে অপরকে ভালবাসতে শিখব, তখনই আমরা এই সমস্যা জয় করতে পারব।

স্যান্ড্রার মা বেনিস পার্কস তাঁর মেয়ে সম্পর্কে বলেন, “ও সব সময় হিংসাকে অপছন্দ করত। সেই হিংসাই কেড়ে নিল ওকে।”

 

(আন্তর্জাতিক স্তরের বাছাই করা ঘটনাগুলো নিয়েবাংলায় খবরজানতে পড়ুন আমাদেরআন্তর্জাতিকবিভাগ।)