কালচে রূপোলি গা। সারা গায়ে ক্ষুরধার বর্ম পরা। ডায়নোসরের জাতভাই দৈত্যাকার স্টারজন মাছ! 

আমেরিকার নদীগুলোতে এক সময় থিকথিক করত স্টারজন। কিন্তু অমন ভয়ানক দেখতে হলে কী হবে, মানুষ এদেরও ছাড়েনি। সুস্বাদু স্টারজনের ডিম থেকে তৈরি ক্যাভিয়ার ডাইনিং টেবিলে ‘ডেলিকেসি’। ফলে ক্রমশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু একশো বছর পরে ফের দেখা মিলল তাদের। অবলুপ্তির অন্ধকার থেকে তারা কি তবে ফিরে আসছে? বিজ্ঞানীমহলে জল্পনা তুঙ্গে।

আমেরিকার মেন-এ নদীর শীতলস্রোতে, মিশিগান ও উইসকনসিনের প্রকাণ্ড হ্রদগুলোতে, ফ্লরিডার কফি-রঙা সুয়ানে নদীর জলে দেখা মিলছে তাদের। ‘আটলান্টিক স্টারজন’ প্রায় ১৪ ফুট লম্বা। দৈর্ঘ্যে একটা ফোকসভাগেন বিটল-এর সমান। এ হেন প্রকাণ্ড মাছটির দর্শন মিলেছে নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীতে। ভার্জিনিয়ার জেমস নদীতেও আটলান্টিক স্টারজনের দেখা মিলেছে। এ সব নিয়ে গবেষণা করছেন ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী গ্রেগ গারম্যান। বলছেন, ‘‘এটা কিন্তু সত্যি নাটকীয় প্রত্যাবর্তন!’’ গারম্যানের কথায়, ‘‘আমরা সত্যিই ভাবিনি ওরা এখনও বেঁচে আছে। এখন দেখছি সর্বত্র রয়েছে।’’

১৮০০ সালের পর থেকে ‘ক্যাভিয়ার’ নিয়ে মাতামাতি শুরু হয় আমেরিকায়। স্টারজনের মতো বড় মাছের ডিম নিয়ে ‘ফুড ডেলিকেসি’। ব্যস, নদ-নদী তোলপাড় করে স্টারজন ধরার হিড়িক। সেই সঙ্গে দূষণ, বাঁধ তৈরি, এ সব বিবিধ কারণে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় দৈত্যাকার মাছটি। ‘দ্য নর্থ আমেরিকান স্টারজন অ্যান্ড প্যাডলফিস সোসাইটি’র প্রেসিডেন্ট জেমস ক্রসম্যান বলেন, ‘‘প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া স্টারজন নিয়ে গত তিন দশকে সব চেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে।’’ দেশের প্রায় সব নদীতে স্টারজনের খোঁজ শুরু হয়। বিশেষ করে যেখানে এক সময়ে তাদের রাজত্ব ছিল। 

এই মুহূর্তে আমেরিকায় স্টারজন ধরা নিষিদ্ধ। তবে গোটা পৃথিবীতে স্টারজনের এক সময়ে যা সংখ্যা ছিল, তার তুলনায় আমেরিকার দেখা পাওয়া দৈত্যাকার মাছটির সংখ্যা একেবারেই কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজাতিটিকে সম্পূর্ণ ভাবে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। তার মধ্যে এখন নয়া সঙ্কট উপস্থিত। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছে। প্রকৃতি বিশারদদের মতে, স্টারজনকে বাঁচাতে হলে সংরক্ষণ নিয়ে আরও উদ্যোগী হতে হবে। এমনই এক বিশেষজ্ঞ জেফ মিলারের কথায়, ‘‘২০ কোটি বছর ধরে অপরিবর্তনশীল ভাবে বাঁচার লড়াই চালিয়ে গিয়েছে এরা। স্টারজনকে রক্ষা করতে আমাদেরও চেষ্টা করতে হবে।’’