সমকামী বিয়েকে স্বীকৃতি দিয়ে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে রেকর্ড গড়ল তাইওয়ান। 

শুক্রবার তাইপেই শহরের পার্লামেন্টে যখন বিল পাশের জন্য ভোটাভুটি নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে, তুমুল বৃষ্টি অগ্রাহ্য করে তখন বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন সমকামী যুগল আর তাঁদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা। প্রেসিডেন্টের তরফে বিল পাশের বার্তা আসার পরেই উৎসবের চেহারা নিল ভিড়টা। রাস্তার উপরেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানাচ্ছেন কেউ। কেউ বা আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। কারও চোখের জল এক হয়ে যাচ্ছে বৃষ্টিধারার সঙ্গে। রামধনু রঙের পতাকা উড়িয়ে এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত সাফল্য বলে জানালেন তাইওয়ানের এলজিবিটি সম্প্রদায়।

তবে এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। ২০১৭ সালে সমকামী বিবাহকে ছাড়পত্র দিয়েছিল তাইওয়ানের শীর্ষ আদালত। ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল, দেশের যে আইন শুধু নারী-পুরুষের বিবাহকেই বৈধতা দেয়, তা অসাংবিধানিক।  কোর্টের নির্দেশ ছিল, দু’সপ্তাহের মধ্যে দেশের আইন বিভাগকে বিশেষ আইন পাশ করে সমকামী বিবাহকে বৈধ বলে ঘোষণা করতে হবে। পরে সেই সময়সীমা বাড়ানো হয় ২০১৯ সালের ২৪ মে পর্যন্ত। গত নভেম্বরে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু বিলের খসড়া জমা পড়ে পার্লামেন্টে। তার মধ্যে বাছাই করা তিনটি বিল নিয়ে পার্লামেন্টে ভোট ছিল শুক্রবার। এক মধ্যে একটি বিল সরকারের, বাকি দু’টি বিরোধীদের পেশ করা। তিনটি বিলের মধ্যে একমাত্র সরকারি বিলেই সমকামী সম্পর্ককে ‘বিয়ে’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাকি দু’টিতে ‘পারিবারিক বন্ধন’-এর মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হলেও বিয়ের কোনও উল্লেখ ছিল না। 

এই জয়ে অবশ্য সমকামীদের সংগঠনগুলি পুরোপুরি খুশি নয়। তাদের মতে, বিয়ের স্বীকৃতি মিললেও একটি কাঁটা রয়েই গিয়েছে। শিশু দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তাঁদের। লড়াই তাই এখানেই শেষ নয়। সমান অধিকারের জন্য যুদ্ধ জারি থাকবে।