ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় ৩ জন মারা গিয়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরয়ো নুগ্রোহো। রিখটার স্কেলে শুক্রবার রাতের ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৫। কেন্দ্র ছিল তাসিকমালায়ার ৫২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মাটির ৯২ কিলোমিটার নীচে। বাড়ি ভেঙে সিয়ামিসে ৬২ বছরের বৃদ্ধ ও পেকালংগন শহরে ৮০ বছরের মহিলা সহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৭ জন। রাজধানী জাকার্তা সহ সারা দ্বীপে অনুভূত হয়েছে কম্পন। কয়েক সেকেন্ড ধরে দুলেছে ঘরবাড়ি।  

নুগ্রোহো জানিয়েছেন, জাভায় একশোরও বেশি বাড়ি ভেঙেছে। অনেক হাসপাতালেরও ক্ষতি হয়েছে। বানুয়ামার এক হাসপাতালে ছাদ ধসে পড়েছে, দেওয়ালে চিড় ধরেছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার ফুটো হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৭০ জন রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে অস্থায়ী তাঁবুতে সরাতে হয়েছে। তাসিকমালায়া, সিয়ামিস, পেকালংগন, বানুয়ামা ছাড়াও পাঙ্গানদারান, বানজর, গারুত, সিলাকাপ, কেবুমেন, ব্রেবেস ও বানজারানেগারা অঞ্চলগুলি ক্ষতির কবলে পড়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। শক্তিশালী দ্বিতীয় কম্পনটির পরই পশ্চিম জাভা, মধ্য জাভা ও যোগকার্তায় সুনামি সতর্কতা জারি হয়। হাজার বাসিন্দাকে উপকূল থেকে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। অবশ্য শনিবার সকালেই এই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। শনিবার ভোরে আরও এক বার দুলে ওঠে মাটি। যদিও সেই কম্পনের সুনামি-শক্তি ছিল না।

প্রশান্ত মহাসাগরের আগ্নেয় বলয়ের ওপরেই ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান। টেকটনিক স্তরগুলির নড়াচড়ার ফলে, এই ধরনের কম্পন ও লাভা উদ্গীরণের খবর এই এলাকায় প্রায়ই শোনা যায়। ২০০৪-এর ডিসেম্বরে এই দেশেই ৯.১ রিখটার স্কেলের ভূমিকম্প হয়েছিল। তার জেরেই এসেছিল সুনামি। দু’লাখের কাছাকাছি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ভারত থেকে সুদূর সোমালিয়া পর্যন্ত উপকূল এলাকা ভেসে গিয়েছিল।