মক্কেলের জামিনের আর্জি যাতে মেনে নেয় আদালত, সে জন্য শুক্রবারের শুনানিতে নীরব মোদীর পোষ্য কুকুর আর তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছেলের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তাঁর কৌসুঁলি ক্লারে মন্টগোমারি। ব্রিটেনে থাকার ব্যাপারে নীরব কতটা আগ্রহী, তা বোঝাতে।

১৩০০ কোটি টাকার পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত নীরবের জামিনের আর্জি আগে এক বার খারিজ হয়ে গিয়েছিল লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। শুক্রবার ফের জামিনের শুনানি শুরু হওয়ার আগেই তার বিরোধিতাকে জোরালো করে তুলতে লন্ডনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের হাতে আরও কয়েকটি নথিপত্র তুলে দেয় সিবিআই এবং ইডি-র যৌথ তদন্তকারী দল। সেখানে দেখানো হয়, ভারত সরকার পাসপোর্ট বাতিল করার পরেও ব্রিটেন থেকে তিন বার অন্য দেশে চলে গিয়েছিলেন নীরব। পিএনবি কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত নীরব মোদী এখন দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ জেলে বন্দি।

লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের প্রধান বিচারপতি এম্মা আরবুথনট শুক্রবার নীরবের জামিনের আর্জি ফের খারিজ করতে গিয়ে দু’টি কারণ দেখান। বলেন, নীরবের ‘ব্রিটেন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যথেষ্টই’। এও বলেন, ‘ব্রিটেনে নীরবের ভিতও খুব মজবুত নয়’।

বিচারপতির ওই দু’টি মন্তব্যের বিরোধিতা করতে গিয়ে নীরবের কৌসুঁলি ক্লারে মন্টগোমারি বলেন, ‘‘ওঁর (নীরব মোদী) ছেলে পড়তেন লন্ডনের চার্টার হাউস স্কুলে। এখন তিনি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বাড়িতে ছেলে থাকেন না বলে তাঁর দেখভাল করার জন্য বাড়িতে একটি কুকুরও রেখেছেন মোদী। এই সবই প্রমাণ করে, জেল থেকে ছাড়া পেলেই ব্রিটেন ছেড়ে অন্য দেশে পালিয়ে যাবেন না মোদী।’’ পশুপ্রেমী দেশ হিসেবে খ্যাতি রয়েছে ব্রিটেনের।

আরও পড়ুন- জেল থেকেই পরের শুনানি নীরবের​

আরও পড়ুন- জেলেই নীরব, বদলির নাটক ইডি-তে​

নীরবের কৌঁসুলির ওই যুক্তি অবশ্য ধোপে টেকেনি গতকাল লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। কারণ, এর পরেই বিচারপতি এম্মা আরবুথনট জানান, জেলের বাইরে থাকার সময় নীরব যে সাক্ষীদের প্রভাবিত করা ও মোবাইল ফোন ভেঙে তথ্যপ্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন, তার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ তাঁর হাতে রয়েছে। ওই যুক্তিতেই নীরবের জামিনের আর্জি গতকাল ফের খারিজ হয়ে যায় লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে।