মার্কিন প্রেসিডেন্টের রোষানলে এ বার জার্মানি। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বা ইম্যানুয়েল কান্ট-এর দেশ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপলব্ধি, ‘জার্মানরা খারাপ, খুবই খারাপ’।

কেন বিশ্বের সব থেকে শক্তিধর রাষ্ট্রপ্রধানের কু-নজরে বার্লিন?

ট্রাম্পের অভিযোগ, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেলের ‘ভুল’ নীতির কারণে ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন অর্থনীতি। আর তাতেই বেজায় খেপেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক-সহ অন্য ইইউ-কর্তাদের সামনেই জার্মানিকে নিশানা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘জার্মানির নীতির জন্য আমেরিকার বাণিজ্য খুবই ধাক্কা খেয়েছে। আমেরিকায় তৈরি গাড়ির বিক্রি কমে গিয়েছে। শুধু জার্মানির গাড়ি বিক্রি হচ্ছে আমেরিকাতে। জার্মানরা খারাপ, খুবই খারাপ।’’

আরও পড়ুন: হাতে হাত, না হাতাহাতি! ফের বিতর্কে ট্রাম্প

জার্মানিকে শুধু খারাপ বলেই থামেননি তিনি। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন বাজারে জার্মানির লাখ লাখ গাড়ি বিক্রি তিনি বন্ধ করে ছাড়বেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, জার্মানিতে উৎপাদিত গাড়ি আমেরিকায় বিক্রি হয়। কিন্তু, খুব কম আমেরিকান গাড়িই জার্মানিতে বিক্রি হয়। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে জার্মানির এ সুবিধা বন্ধ করে দেবেন।

প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বহু আলোচিত অভিবাসন নীতির ফলে ইতিমধ্যেই কাজ হারিয়েছেন অনেক বিদেশি। ভিসার মেয়াদ না বাড়ানোয় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত কয়েকশো কর্মী। ট্রাম্পের নীতির কারণে ভারতের বহু কর্মীর কপালেও চিন্তার ভাঁজ। স্বাভাবিক ভাবেই ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে জার্মান গাড়ি শিল্প ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৈঠকেই ট্রাম্পকে শান্ত করার চেষ্টা করেন জাঙ্কার। তিনি জার্মানির পক্ষ নিয়ে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন, মুক্ত বাণিজ্য সকলকেই সুবিধা দেয়। ফলে এটা নিয়ে অভিযোগ করাটা ঠিক নয়। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ট্রাম্পের এমন হুঙ্কারে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েন সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েক জন মার্কিন আধিকারিকও।