আঙুল এ বার চিনের দিকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, আমেরিকা-উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরির চেষ্টা করছে চিন।

কিমের দেশে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রকল্প মোটেই বন্ধ হয়নি— কয়েক দিন আগে মার্কিন গোয়েন্দাদের রিপোর্টে উঠে এসেছিল এমনই তথ্য। তবে তাই নিয়ে এখনও আমেরিকার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সদ্য তৈরি ইতিবাচক সম্পর্কে কোনও চিড় ধরেনি। কিন্তু পিয়ংইয়্যাংয়ের দাবি, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে যৌথ মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট একের পর এক টুইটে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বেজিংয়ের দিকে। তাঁর মতে, ‘‘উত্তর কোরিয়ার উপরে অসম্ভব চাপ তৈরি করছে চিন। কারণ আমেরিকার সঙ্গে চিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কে এখন যথেষ্ট চাপানউতোর চলছে।’’ আর তাই ট্রাম্পের মনে হচ্ছে, চিন ঘুরপথে আমেরিকাকে চাপ দিতে পাল্টা চাপ তৈরি করছে কিমের দেশের উপরে। চিনের মিত্র দেশ বলেই পরিচিত উত্তর কোরিয়া। তাই সেখানে বেজিংয়ের প্রভাব যথেষ্ট। বস্তুত কিম-ট্রাম্প বৈঠকের আগে দু’বার বেজিং সফরে যান উত্তর কোরিয়ার শাসক। যা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন ট্রাম্পও। তাঁর মনে হয়েছিল, ওই বৈঠকেও প্রভাব খাটাতে চায় বেজিং। 

টুইটে চিনকে তোপ দাগার পাশাপাশি ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়া চালাবে না আমেরিকা। অথচ কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব জেমস ম্যাটিস বলেন, যৌথ মহড়া চলার সম্ভাবনা রয়েছে। চিনকে ঠুকলেও ট্রাম্প অবশ্য রাস্তা খোলা রেখে আবার বলেছেন, সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক টানাপড়েন শেষ হবে, এই বিশ্বাস তাঁর আছে। তবু এই টুইটে খেপে গিয়েছে চিন। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেছেন, ‘‘এই মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। সমস্যা সমাধানে দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর আগে ওরা নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখুক।’’