হাভার্ড ল স্কুলের মেধাবী ছাত্র বছর বাইশের হরমান সিংহ। কয়েক দিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কিছু জিনিস কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। কোথা থেকে একটা লোক এসে তাঁকে ক্রমাগত বিরক্ত করছিল। ‘‘লোকটা বারবার জানতে চাইছিল আমি কোথা থেকে এসেছি। নজর রাখছিল আমার উপর। ওর চাহনিটা ভাল লাগছিল না। হিংস্র ভাবে আমার পাগড়ির দিকে দেখছিল। ভয়ে পালিয়ে এলাম।’’ এক নিঃশ্বাসে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে কথাগুলো বলছিলেন হরমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের পর থেকে জাতি ও ধর্মবৈষম্যের ঘটনা দিনে দিনে বাড়ছে। হরমানের ঘটনা তার মধ্যেই একটা। পুলিশের কাছে হরমানের অভিযোগ, ভয়ে বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না তিনি। প্রাক-নির্বাচনী প্রচার পর্বেই ট্রাম্পের বিতর্কিত নানা মন্তব্যের জেরে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল আগেই। নির্বাচনের পর অভিযোগের সংখ্যাটা বেড়ে অন্তত দু’শোয় ঠেকেছে।

শুধু হরমান সিংহের মতো শিখ ধর্মাবলম্বীরা নন, আক্রান্ত হন এক অনাবাসী ভারতীয় মহিলাও। মাথায় জড়ানো স্কার্ফকে হিজাব ভেবে ওই মহিলার গাড়িতে সম্প্রতি হামলা চালায় আততায়ীরা। পুলিশ সূত্রের খবর, বছর ৪১-এর ওই মহিলার নাম নিকি পাঞ্চোলি। আদতে রাজস্থানের বাসিন্দা নিকি জানান, রোগে চুল পড়ে যাচ্ছিল তাঁর। তাই সারা ক্ষণ মাথায় স্কার্ফ বেঁধে রাখতেন তিনি। নিকির অভিযোগ, সম্প্রতি কেউ বা কারা তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। চুরি যায় গাড়িতে রাখা পার্স আর চেকবই। গাড়ির ভাঙা কাচের উপর রেখে যাওয়া এক টুকরো কাগজে লেখা ছিল, ‘হিজাব পরার শাস্তি’।

কয়েক দিন আগে মিনেসোটার এক স্কুলে হেনস্থার শিকার হন এক মুসলিম ছাত্রী। ভরা ক্লাসে তাঁর হিজাব খুলে ফেলে দিয়ে চুল ধরে টান মারে এক সহপাঠী। শুধু এই ঘটনাই নয়, জর্জিয়ার এক মুসলিম স্কুল শিক্ষিকাকে চিঠিতে তাঁরই হিজাব গলায় জড়িয়ে আত্মহত্যা করতে বলা হয়েছিল। এর কিছু দিন পরেই মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুসলিম ছাত্রী হিজাব না খোলায় তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। একের পর এক হিংসা ছড়ানোয় ঘটনায় আমেরিকায় মুসলিমদের পাশাপাশি সন্ত্রস্ত প্রবাসী ভারতীয়রাও।