ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী ক্রেইগ কোলি। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য। ১৯৭৮ সালে প্রেমিকা রন্ডা উইখত ও রন্ডার চার বছর বয়সী সন্তান ডোনাল্ডকে খুন করবার গুরুতর অভিযোগে জেল হয় তাঁর। কিন্তু বরাবরই কোলি দাবি করে আসছিলেন যে তিনি নির্দোষ। তারপর থেকে দীর্ঘ ৩৯ বছর জেলের ভিতর অপেক্ষার প্রহর গুনেছেন তিনি। অবশেষে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন কোলি। তবে পার হয়ে গিয়েছে যৌবন। সেদিনের ৩২ বছরের সেই যুবক আজ ৭১ বছরের বৃদ্ধ।

জেল থেকে বেরিয়েই কোলি তাঁর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, এই অভিযোগে মামলা করেন আদালতে। সেই মামলাতেই জয় লাভ করবার পর আদালত গত ২৩ ফেব্রুয়ারি, শনিবার তাঁকে ২ কোটি ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।

১৯৭৮ সালে খুন হন ক্রেইগ কোলির প্রেমিকা রন্ডা ও তাঁর চার বছরের ছেলে। রন্ডার প্রতিবেশীর করা অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় কোলিকে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলা চলবার পরে ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় কোলিকে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসা কোলি আর বিচারের মুখ দেখতে পাননি। অবশেষে মার্কিন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাইকেল বেন্ডার কোলির ব্যাপারে উৎসাহ দেখান। তাঁর উদ্যোগেই অন্যান্য তদন্তের সঙ্গেই যে বিছানায় রন্ডা খুন হয়েছিলেন, সেখান থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়। তারপরেই সামনে আসে সত্যিটা। দেখা যায় যে রন্ডা ও তাঁর ছেলের খুনি কোলি নন, অন্য কেউ।

আরও পড়ুন: রেস্টরুম কার? লড়াইয়ের মাঠে রূপান্তরকামী পড়ুয়ারা

এর আগে বয়স জনিত কারণ দেখিয়ে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার তৎকালীন গভর্নর জেরি ব্রাউন কোলিকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এরপরে আদালত থেকেও খুনের মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে অবশেষে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়ানোর সুযোগ হল তাঁর।

আরও পড়ুন: সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকুন, পাক জনতা ও সেনার উদ্দেশে বার্তা ইমরানের