যুদ্ধ! বাণিজ্যের।

শেষ পর্যন্ত আশঙ্কা সত্যি করে বৃহস্পতিবার বেজিংয়ের দিকে শুল্ক-ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা ঘোষণা করেই দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে চিনও। স্পষ্ট জানিয়েছে, আঘাত এলে, চুপ করে বসে থাকবে না তারা। বরং সে ক্ষেত্রে পাল্টা দিতে তারা তৈরি।

এই তাল ঠোকাঠুকিতে কাঁপুনি ধরেছে সারা বিশ্বের শেয়ার বাজারে। ট্রাম্প এ দিন এই সংক্রান্ত স্মারকলিপি সই করার পরেই হুড়মুড়িয়ে পড়তে শুরু করে আমেরিকার শেয়ার বাজার। এমনটা ঘটতে পারে, শুধু এমন আঁচ করে নেমেছে ভারতের বাজারও। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই ‘বিশ্বযুদ্ধে’ দু’পক্ষ ক্ষান্ত না দিলে, আরও রক্ত ঝরবে বিশ্বের বাজারে।

ওয়াশিংটনের দাবি, তারা তদন্তে দেখেছে, অবাধ বাণিজ্যের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না চিন। যে সমস্ত মার্কিন সংস্থা তাদের দেশে ব্যবসা বা বিনিয়োগ করে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত রাখার নিয়ম ভেঙে এবং চাপ খাটিয়ে এশীয় দেশটি হাতিয়ে নেয় তাদের প্রযুক্তি। যা সরকারি চোখরাঙানিতে প্রযুক্তি চুরিই। তারা অভিযোগের আঙুল তুলেছে চিনের উঁচু শুল্ক-প্রাচীরের দিকেও। আর এই সব কারণেই ৬,০০০ কোটি ডলারের চিনা পণ্যে চড়া শুল্কের প্রস্তাব। চিনের কটাক্ষ, অবাধ বাণিজ্যে তো দেওয়াল তুলছে ট্রাম্পের আমেরিকাই!

বিশ্ব অর্থনীতির দুই মহাশক্তির এই যুদ্ধে তাই কাঁপুনি বাজার ও কর্পোরেট দুনিয়ায়। হবে না-ই বা কেন? ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ৭,০০০ বোয়িং বিমানের বরাত দিয়েছে তো শুধু চিনা সংস্থাই। পুরোদস্তুর যুদ্ধ বাধলে, তাই প্রভাব সর্বগ্রাসী হওয়ারই সম্ভাবনা।

অনেকে বলছেন, ক্ষতি এত মারাত্মক বলেই আলোচনার দরজা কিছুটা খুলে রেখেছেন ট্রাম্প। যতটা কড়া পদক্ষেপের কথা ছিল, এ দিনের প্রস্তাব না কি তার তুলনায় কিছুটা নরম। কিন্তু তাতে কি যুদ্ধ আটকাবে? উত্তর ট্রাম্প ছাড়া আর এক জনই জানেন। চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং।