• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আবার অনুদান বাতিল করল আমেরিকা, ঘোর আর্থিক সঙ্কটে পাক সেনা

General Raheel Sharif
সঙ্কট বাড়ছে, কপালে কি চিন্তার ভাঁজ জেনারেল রাহিল শরিফের? —ফাইল চিত্র।

আবার ধাক্কা খেল পাকিস্তানের সেনা। ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অনুদান প্যাকেজ আটকে দিল আমেরিকা। জঙ্গি বিরোধী অভিযানে পাকিস্তানের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়, মনে করছেন খোদ মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব অ্যাশটন কার্টার। তাই পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত, এই বিপুল আর্থিক অনুদান এই মুহূর্তে পাকিস্তানকে দেওয়া অর্থহীন। এর আগে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার জন্য পাকিস্তানকে যে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্য দেওয়ার কথা ছিল, মার্চ মাসে তাও আটকে দিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস। মাস পাঁচেকের মধ্যে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার হাতছাড়া হওয়ার ধাক্কায় টালমাটাল পাক সেনাবাহিনী।

কোয়ালিশন সাপোর্ট ফান্ড বা সিএফএফ-এর আওতায় পাকিস্তানকে এই ৩০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল আমেরিকার। যে সব সহযোগী দেশ জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান চালানোর জন্য অর্থ ব্যয় করে, তাদের সাহায্য করার জন্যই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই তহবিল। পাকিস্তান দীর্ঘ দিন ধরেই পেন্টাগনের কাছ থেকে এই সাহায্য পেয়ে আসছিল এবং তারাই এই তহবিল থেকে সর্বাধিক সাহায্যপ্রাপ্ত দেশ। কিন্তু যে পরিমাণ অর্থ এই দীর্ঘ সময়ে পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে, জঙ্গি বিরোধী অভিযানে পাকিস্তানের ভূমিকা ততটা উল্লেখযোগ্য নয় বলে আমেরিকা মনে করছে। তাই এই অনুদান আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।

পাকিস্তান আমেরিকার দীর্ঘ দিনের সহযোগী হলেও, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকায় বেশ কয়েক বছর ধরেই আমেরিকা অসন্তুষ্ট। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তালিবানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযান পাক সেনা চালিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তার পর থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনও বড় পদক্ষেপ পাক সেনা করেনি। ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদীদের কাজে লাগাতে অভ্যস্ত পাক সেনা কৌশলগত ভাবেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করছে না। আফগান তালিবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিয়ান তীব্র করুক পাকিস্তান, বার বারই বলছে ওয়াশিংটন। কিন্তু তাতে পাকিস্তানের সাড়া আশাব্যঞ্জক নয়। সিএসএফ-এর আওতায় পাকিস্তানকে অনুদান দেওয়ার ক্ষমতা পেন্টাগনের হাতে থাকলেও, মার্কিন কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্ত পাশ করাতে হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে পাক ভূমিকা এতই খারাপ যে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব অ্যাশটন কার্টার মার্কিন কংগ্রেসে পাকিস্তানের হয়ে কোনও কথা বলবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে যে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার পাকিস্তানকে দেওয়ার কথা ছিল, সেই সিদ্ধান্তে মার্কিন কংগ্রেসের সিলমোহর পড়ার কোনও প্রশ্নই উঠছে না আর। বুধবার পেন্টাগনের মুখপাত্র অ্যাডাম স্টাম্প বলেছেন, ‘‘এই মুহূর্তে পাকিস্তানকে অর্থসাহায্য দেওয়া যাচ্ছে না কারণ প্রতিরক্ষা সচিব মনে করছেন পাকিস্তান হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি।’’

আরও পড়ুন: বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্যেই ইসলামাবাদ পৌঁছলেন রাজনাথ

এই বিপুল আর্থিক অনুদান আটকে যাওয়ায় অর্থ সঙ্কটে ভুগতে থাকা পাক সেনার সমস্যা আরও বাড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মার্চ মাসে ৭০ কোটি মার্কিন ডলারের অনুদান বাতিল করেছিল আমেরিকা। মার্কিন সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান তথা রিপাবলিকান সেনেটর বব কর্কার নিজেই পাকিস্তানকে সাহায্য দেওয়া আটকাতে তৎপর হয়েছিলেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছিলেন, বৈদেশিক সম্পর্ক সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর যে ক্ষমতা রয়েছে, তা প্রয়োগ করে তিনি পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য দেওয়া আটকাবেন। বৈদেশিক সেনাবাহিনীকে সাহায্যের জন্য মার্কিন সরকারের যে তহবিল, তার থেকেই ওই ৭০ কোটি ডলার পাকিস্তানকে দেওয়ার কথা ছিল। ওই টাকার ভরসাতেই পাকিস্তান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সে তহবিল আটকে যাওয়ায়, পাক সেনা এফ-১৬ কিনতে পারেনি। আবার ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল হাতছাড়া হওয়ায় জেনারেল রাহিল শরিফের সঙ্কট নিঃসন্দেহে বাড়তে চলেছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন