ঠিক এক বছর আগের কথা। ম্যানহাটনের এক পানশালায় ককটেল আর মেক্সিকান খাবার তৈরি করতেন আলেকজ়ান্দ্রিয়া ওকাসিও কোর্তেজ়। ‘‘আমার মতো কারও রাজনীতিতে নামার কথাই নয়,’’ বলছিলেন ২৮ বছর বয়সী পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত তরুণী। দশ বারের বিজয়ী, হাউস অব রেপ্রেজ়েন্টেটিভসের প্রবীণ সদস্য জোসেফ ক্রলিকে হারিয়ে হাউসের ডেমোক্র্যাটিক ককাসের আসন দখল করেছেন এই আলেকজ়ান্দ্রিয়া।

এই তরুণীর জয়ে নড়চড়ে বসেছে নিউ ইয়র্ক। টনক নড়েছে ডেমোক্র্যাটিক দলেরও। কারণ এই জয় এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি-সহ একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শুধু ডেমোক্র্যাট নয়, রিপাবলিকান দলের অন্দরেও অস্বস্তির আবহ। তার উপর, গত সপ্তাহেই শ্রমিকদের অধিকার, মুসলিম দেশ থেকে আমেরিকায় আসায় নিষেধাজ্ঞা, গর্ভপাত-বিরোধী আইনে স্বীকৃতির মতো একগুচ্ছ ‘রক্ষণশীল’ রায় দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ফলে ট্রাম্প জমানায় কোন পথে হাঁটবে আমেরিকা, সেই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকেই। সংশয়-দীর্ণ এই সময়ে হাউসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে এক অ-শ্বেতাঙ্গ, অ-ধনী, অনভিজ্ঞ কম বয়সি মহিলা নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।

কে এই আলেকজ়ান্দ্রিয়া? নিউ ইয়র্কের নিম্নবিত্ত এলাকা ব্রনক্সে জন্ম। বাবা এই এলাকারই। মা এসেছিলেন পুয়ের্তো রিকো থেকে। স্কুল ছিল ত্রিশ মাইল দূরে। তারপর বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক। পড়াশোনা শেষ করে নিউ ইয়র্কেরই একটি ছোট সংস্থায় ‘শিক্ষা উপদেষ্টা’র পদে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যানসারে বাবার হঠাৎ-মৃত্যু এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চাকরি নিয়ে টানাটানির ফলে জীবনটাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন আলেকজ়ান্দ্রিয়া। দিন গুজরানের জন্য বাড়ি বন্ধক রাখতে বাধ্য হন তাঁরা। ‘‘সেই সময়ে মা বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করতেন, আর আমি এক পানশালায় দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে বাড়ি বন্ধকের টাকা শোধ করতাম,’’ বললেন আলেকজ়ান্দ্রিয়া।  তাঁর কথায়, ‘‘নিম্নবিত্ত মানুষের লড়াইটা আমি বুঝি, কারণ এই লড়াই আমিও করেছি।’’

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের বাজি ছিলেন হিলারি ক্লিন্টন। সে বাজি হেরেছিলেন তাঁরা। আলেকজ়ান্দ্রিয়া কোর্তেজ়ের মতো ‘অন্য রকম’ নেত্রীদের নিয়ে এ বার কি নতুন পথে হাঁটবে ডেমোক্র্যাট দল?