Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

এনসেফ্যালাইটিস রোধে ‘হু’-এর বাজি পাতিহাঁস

রাহুল রায়
কলকাতা ২৫ জুলাই ২০১৪ ০২:৫৯

কামান নয়, এনসেফ্যালাইটিসের মশা মারতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’-এর দাওয়াই হাঁস।

পুণে এবং দিল্লির জীবাণুবিজ্ঞানীরা উত্তরবঙ্গ সফর সেরে প্রশ্ন তুলেছিলেনরোগের উপসর্গ তো দেখা দিয়েছিল মাস ছয়েক আগেই। স্বাস্থ্য দফতরের টনক নড়েনি? রাজ্যকে ঠেস দিয়ে হু-এর বিজ্ঞানীরা তিরস্কার করছেনসপ্তাহ তিনেক তো হল, রোগ-সংক্রমণের উৎসে আঘাত করতে এত বিলম্ব কেন?

ডুয়ার্স জুড়ে মৃত্যু-মিছিল বয়ে আনা জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের উৎস যে কিউলেক্স বিশনুই মশা, সে রহস্য ভেদ করা গিয়েছিল। কিন্তু সেই উৎসে আঘাত হানা কী করে সম্ভব?

Advertisement

দিন কয়েক আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্টের দাবি: কিউলেক্স বিশনুই মশককুল নিয়ন্ত্রণের ‘প্রকৃষ্ট’ উপায় পাতি হাঁস। উত্তরের সাত জেলার সংক্রমণ প্রবণ এলাকায় ঘরে ঘরে তাই পাতি হাঁস (ইন্ডিয়ান রানার ডাক), ক্যাম্পবেল বা মাসকভি হাঁসের চাষ শুরু করা উচিত।

হু-এর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিছকই বদ্ধ জলাশয়, ধানি জমি বা জলাজমিতে নয়, মাঝারি মাপের ঝোপঝাড়ে ছড়িয়ে থাকা কীট-পতঙ্গ এবং জীবাণুদের নিয়ন্ত্রণ করতে হাঁসের জুড়ি নেই। আন্তর্জাতিক ওই সংস্থার অধিকর্তা (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) পুনম ক্ষেত্রপাল সিংহ জানান, আঁতুরঘর হিসেবে মশককুলের পছন্দ খাল-বিল-পুকুর। এগুলো আবার হাঁসের পছন্দের ঠিকানাও। তাদের পছন্দের খাদ্য তালিকাতেও রয়েছে মশার লার্ভা। একটি পূর্ণ বয়স্ক হাঁস দিনে অন্তত ৮০ হাজার থেকে এক লক্ষ লার্ভা উদরস্থ করতে পারে। পুনমের পরামর্শ--উত্তরের জলায় ছড়িয়ে থাকা কিউলেক্স মশার সেই লার্ভা নিধনে হংসকুলই হতে পারে সেরা বাজি।

সে পরামর্শ কি কানে তুলছে স্বাস্থ্য দফতর? স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলছেন, “বিশেষজ্ঞদের খোঁজ নিতে বলেছি। উত্তরের জেলাগুলিতে হাঁস চাষের প্রশ্নে প্রয়োজনে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের সঙ্গেও কথা বলতে রাজি আছি।” প্রাণিসম্পদ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, “স্বাস্থ্য দফতর চাইলে হু-এর নির্দেশ মেনে আমারা নিশ্চয় উত্তরবঙ্গে হাঁস চাষে বাড়তি উদ্যোগ নেব।”

রাজ্যের কারিগরি ও প্রযুক্তি দফতেরর অন্যতম উপদেষ্টা জীবাণু বিশেষজ্ঞ জহরলাল চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, “হু-এর ওই পরামর্শ মেনে প্রাণিবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে হাঁসের সংখ্যা কম। তাই ত্রিপুরা বা কর্নাটক থেকে হাঁস এনে উত্তরবঙ্গে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা যায় কিনা ভেবে দেখা হচ্ছে।”

এ ব্যাপারে সাহায্য করতে রাজি হায়দরাবাদের ‘ডায়রেক্টরেট অফ পোলট্রি রিসার্চ’। সংস্থার কর্তা আর ভি রাও বলেন, “জাপানি এনসেফ্যালাইটিস রুখতে হু-এর পরামর্শ একদম সঠিক। প্রয়োজনে আমরা পশ্চিমবঙ্গে হাঁস সরবরাহও করতে পারি।”

কিন্তু ওই লার্ভা হাঁসেরা হজম করছে কী করে? জীববিজ্ঞানী স্বপন শূরের অভিজ্ঞতা, “ইন্ডিয়ান রানার কিংবা মাসকভি হাঁসের পাকস্থলিতে এমন এক ধরনের উৎসেচক থাকে যা সহজেই ওই লার্ভা হজম করতে পারে। এতে শুধু মশা নিধনই নয়, ওই হাঁসের ডিম দেওয়ার ক্ষমতাও বেড়ে যায়। জাপানি এনসেফ্যালাইটিস লার্ভা খাওয়ার পরে ওই প্রজাতির হাঁসের ময়নাতদন্তে এমনই প্রমাণ মিলেছে।”

বছর কয়েক আগে জম্মু এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় একই ভাবে থাবা বসিয়েছিল জাপানি এনসেফ্যালাইটিস। হু-এর এক বিজ্ঞানীর অভিজ্ঞতা, “দিনের পর দিন সেখানে গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে আমরা ছড়িয়ে দিয়েছিলাম পাতি হাঁস। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই অযাচিত সাফল্য মিলেছিল। মশক বংশ প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল হাঁসেরা।” সেই সাফল্যে বুক বেঁধে গত বছর মহারাষ্ট্রেও একই পদ্ধিত প্রয়োগ করেছিল হু। পশ্চিম ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ এবং আমেরিকায় এখন হু-এর নির্দেশ মেনেই এনসেফ্যালাইটিস রোধে হাঁস চাষ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এ বার তাহলে মিশন উত্তরবঙ্গ?

আরও পড়ুন

Advertisement