Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বড়দের টিকা দিতে অসমে নজর বাংলার

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ও গুয়াহাটি ২৯ জুলাই ২০১৪ ০৩:১৩

চলতি বছরেই অসম পরীক্ষামূলক ভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের টিকা দিতে শুরু করেছে। ইতিবাচক ফল মিললে পশ্চিমবঙ্গও সেই টিকাকরণ শুরু করার কথা ভাববে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব মলয় দে।

কথাটা ভাবতেই হচ্ছে। কারণ, এ বারেই প্রথম রাজ্যে বয়স্কদের মধ্যেও ওই মারণ রোগ ছড়িয়েছে। এত দিন শুধু শিশু-কিশোরেরাই জাপানি এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত হতো। ওই রোগ ঠেকাতে রাজ্যের জাপানি এনসেফ্যালাইটিস-প্রবণ জেলাগুলিতে টিকাকরণ কর্মসূচি চালু আছে। কিন্তু এ বার উত্তরবঙ্গে বয়স্কদের মধ্যেও ওই রোগ ছড়ানোয় পুরনো ধারণা বদলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০১৫ সাল থেকে দেশে বয়স্কদেরও টিকা দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন রবিবার দিল্লিতে জানিয়েছেন।

কিন্তু শিশু-কিশোরদের যে-টিকা দেওয়া হয়, বড়দের সেটাই দেওয়া হবে, নাকি তাঁদের জন্য নতুন ধরনের টিকার ব্যবস্থা হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সেই সংশয় না-কাটলে তাঁরা বয়স্কদের টিকাকরণ কর্মসূচি চালু করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যকর্তারা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কর্তারা জানাচ্ছেন, অসম এ বার বয়স্কদের টিকাকরণ কর্মসূচি চালু করেছে। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যকর্তারা অসমের স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করলেই এ ব্যাপারে তাঁদের সংশয় কেটে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যসচিব মলয়বাবু বলেন, “অসমে কেন্দ্রীয় সহযোগিতায় প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ শুরু হয়েছে। তবে তাতে কাজ কতটা হচ্ছে, সেটা তো এখনই বোঝা যাবে না। ইতিবাচক ফল মিললে আমরা নিশ্চয়ই তা অনুসরণ করার কথা ভাবব।”

Advertisement

অসম অবশ্য প্রথম নয়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, জীবাণুবিজ্ঞানী বিজয় মুখোপাধ্যায় জানান, ১৯৮৮ থেকে ’৯৫-এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বার পাঁচ থেকে ২৫ বছর বয়সিদের টিকাকরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। বাংলায় এখনই বড়দের ওই টিকা দেওয়া যাবে না বলে তাঁর অভিমত।

কেন দেওয়া যাবে না?

“পশ্চিমবঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের এই টিকা দিতে হলে বেশ কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের যে-প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেটা পুরোপুরি না-থামলে টিকাকরণ করে লাভ নেই,” বলেছেন ওই জীবাণুবিজ্ঞানী।

বয়স্কদের টিকাকরণ কর্মসূচিতে অসম কতটা সাফল্য পেয়েছে?

অসমের স্বাস্থ্য বিভাগের স্টেট সার্ভেইলেন্স অফিসার ভবেশচন্দ্র ভগবতী জানান, জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের মোকাবিলায় কেন্দ্রের সহায়তায় তাঁদের রাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে টিকাকরণ কর্মসূচি চলছে জানুয়ারি থেকেই। ১৫ থেকে ৭০ বছর বয়সিদের এই টিকা দেওয়া হয়েছে। উজানি অসমের ডিব্রুগড়, তিনিসুকিয়া, যোরহাট, গোলাঘাট, লখিমপুর, ধেমাজি, শিবসাগরে টিকাকরণ শেষ হয়েছে। সেখানে এ বার ওই রোগের সংক্রমণ কম।

জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অসমে জাপানি এনসেফ্যালাইটিসে মৃতের সংখ্যা ৮০। আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬৬। শুধু চলতি মাসে ৩৫০ মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোম (এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গযুক্ত রোগ)-এ ১৮৩ জন মারা গিয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ১১৬৮। অসমের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বীণাপাণি বসুমাতারির দাবি, বয়স্ক ও শিশুদের প্রতিষেধক দেওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। ওই রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, নমনি অসমেই এ বার সংক্রমণ বেশি। কারণ, সেখানে এখনও বয়স্কদের টিকাকরণ কর্মসূচি চালু হয়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে আরও ন’টি জেলায় এই প্রকল্প শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার।

অসমের স্বাস্থ্য দফতরের এক অফিসার বলেন, “বয়স্কদের মধ্যে টিকা কর্মসূচি চালু করার জন্য আমরা লাগাতার কেন্দ্রের কাছে দরবার করে গিয়েছি।” তিনি জানান, অসমের কোন কোন এলাকা জাপানি এনসেফ্যালাইটিস-প্রবণ, কোন বছর কোথায় ক’জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা কী, তার তালিকা অনেক আগেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। কারণ, সব কাগজপত্র ঠিক না-থাকলে ওদের অনুমতি মেলে না।

এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের কোনও কোনও কর্তা এ বছরেই উত্তরবঙ্গে বড়দের টিকাকরণের পক্ষপাতী ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, অসমের মতো লেগে থেকে এ বছরই বয়স্কদের টিকা দেওয়া গেলে এত লোকের মৃত্যু হতো না। তা হলে সেটা চালু হল না কেন?

স্বাস্থ্য ভবনে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, অসম যে-ভাবে ওই রোগের পিছনে পড়ে থেকে সবিস্তার তালিকা বানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের হাতে তেমন কোনও তালিকা নেই। আর ওই তালিকা না-থাকলে বড়দের টিকাকরণের ব্যাপারে রাজ্যের দাবি কেন্দ্র মানবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

তৃণমূল সরকার যে-ভাবে এনসেফ্যালাইটিসের মোকাবিলা করছে, তার সমালোচনা করার সঙ্গে সঙ্গে টিকাকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। চিকিৎসক ও প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সূর্যবাবু সোমবার বলেন, “এনসেফ্যালাইটিসের আসল প্রতিষেধক হচ্ছে টিকা। কলকাতায় টিকা আগেই চালু হয়েছিল। এখন জানা যাচ্ছে, সেই টিকাকরণ ঠিকমতো চলছেই না!” গাফিলতির জন্য স্বাস্থ্যকর্তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

Advertisement