Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০২ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

জাতীয় নগর স্বাস্থ্য মিশন

শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকবে বহির্বিভাগও

নিজস্ব সংবাদদাতা
মেদিনীপুর ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৪৯

জাতীয় নগর স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পে যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি তৈরি হবে, তাতে থাকবে বহির্বিভাগও। দিনে অন্তত ছ’ঘন্টা এই বিভাগ খোলা রাখতে হবে। কখন বহির্বিভাগ খোলা থাকবে, তা ঠিক করবে পুরসভাই। বৃহস্পতিবার জেলাস্তরে প্রকল্পের এক বৈঠকে পুরপ্রধানদের এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য- কর্তারা। এ দিন জেলা স্বাস্থ্য ভবনে ওই বৈঠকে ছিলেন জাতীয় নগর স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পে রাজ্যের সহকারী-অধিকর্তা অজয় ভট্টাচার্য, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা, জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা প্রকল্পের এ জেলার নোডাল অফিসার সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গি। মেদিনীপুরের পুরপ্রধান প্রণব বসু, খড়্গপুরের পুরপ্রধান প্রদীপ সরকারও উপস্থিত ছিলেন।

এক সময় গ্রামাঞ্চলের জন্য এনআরএইচএম (ন্যাশনাল রু রাল হেলথ্ মিশন) প্রকল্প চালু হয়েছে। পরে শহরাঞ্চলের জন্য এনএএইচএম (ন্যাশনাল আর্বান হেলথ্ মিশন) প্রকল্প চালু হয়। প্রকল্পটি ঠিক কী, কী ভাবে কাজকর্ম চলবে, এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দফতরের কী ভূমিকা, পুরসভার কী ভূমিকা— এ সব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আপাতত, পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪টি শহর মেদিনীপুর, খড়্গপুর, ঝাড়গ্রাম এবং ঘাটালে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।। মেদিনীপুরে ৩টি, খড়্গপুরে ৬টি, ঝাড়গ্রাম এবং ঘাটালে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে উঠবে। মেদিনীপুরের ক্ষেত্রে জায়গা চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে। এ বার নির্মাণকাজ শুরু হবে। খড়্গপুরের ক্ষেত্রে চারটি ধুঁকতে থাকা স্বাস্থ্য কেন্দ্র মেরামত করা হবে। বাকি দু’টি নতুন করে তৈরি হবে। জায়গা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ঝাড়গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। আর ঘাটালে জায়গা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

আগামী ছ’মাসের মধ্যে এই চারটি শহরে প্রকল্পের কাজ শুরু করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধপত্রের জন্য বছরে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ টাকা খরচ করবে স্বাস্থ্য দফতর, বাকি ২০ শতাংশ টাকা খরচ করবে পুরসভা। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্রবাবু বলেন, “পুর-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

Advertisement

প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বহির্বিভাগ থাকায় শহরবাসী, বিশেষ করে শহরে বসবাসকারী গরিব মানুষজন উপকৃত হবেন বলেই দাবি স্বাস্থ্য দফতরের। গিরীশচন্দ্রবাবুর বক্তব্য, “প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বলতে যা বোঝায়, শহরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে তাই থাকবে।” জেলার অন্য এক স্বাস্থ্য-কর্তার মতে, গরিব মানুষদের একাংশ কখনও-সখনও রোগ লুকোছাপা করেন। সামান্য পেটে ব্যাথা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হলেও তাঁরা তা করেন না। হাতের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বহির্বিভাগ থাকলে সুবিধে হবে। প্রতিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৫-১৭ জন কর্মী থাকবেন। এর মধ্যে দু’জন এমও (মেডিক্যাল অফিসার), তিন জন সিস্টার, এক জন করে ফার্মাসিস্ট, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ক্লার্ক, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, সাপোর্ট স্টাফ, দু’জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং তিন থেকে পাঁচ জন এএনএম। করণিক নিয়োগ করবে পুরসভা। মেডিক্যাল অফিসার, সিস্টার নিয়োগ করবে স্বাস্থ্য দফতর। এই প্রকল্পে জেলার নোডাল অফিসার সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গি বলেন, “শহরে যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হবে, সেখানে অনেক পরিষেবাই মিলবে।”

যে চারটি শহরে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে, সেই চারটি শহরেই সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। মেদিনীপুরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঝাড়গ্রামে জেলা হাসপাতাল, ঘাটাল এবং খড়্গপুরে মহকুমা হাসপাতাল রয়েছে। অবশ্য, এই সব হাসপাতালে যে পরিকাঠামো থাকা উচিত, যে রকম পরিষেবা মেলা উচিত, তা নেই বলেই একাংশ শহরবাসীর অভিযোগ। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক সূত্রে খবর, এনআরএইচএম প্রকল্পে যে ভাবে কাজ হয়, এনএএইচএম প্রকল্পেও সে ভাবে কাজ হবে। গোড়ার দিকে থাকবেন আশার মতো স্বাস্থ্য কর্মীরা। পরে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র। তারপর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। পাশাপাশি, এলাকায় এলাকায় মহিলা আরোগ্য সমিতিও থাকবে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার কথায়, “৫০-১০০টি বাড়িপিছু একটি করে মহিলা আরোগ্য সমিতি থাকবে। ১০ হাজার জন বাসিন্দা পিছু একটি করে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকবে।” বস্তি এলাকায় চিকিত্‌সা শিবির হবে। চিকিত্‌সক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে যাবেন।

স্বাস্থ্য দফতরের আশা, শহরে এনএএইচএম প্রকল্প চালু হলে রোগ প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার আরও বাড়বে। কোনও রোগের প্রধান লক্ষ্মণগুলো কী কী, রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রধান উপায়গুলোই বা কী কী, এ সব আরও বেশি করে মানুষ জানতে পারলে সুবিধেই হবে। তখন অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবেন। স্বাস্থ্যবিধি পালন ও প্রয়োজনীয় চিকিত্‌সাই মানুষকে রোগমুক্ত করে। মেদিনীপুরের এক পুর-কর্তাও মানছেন, “আপদে-বিপদে হাতের সামনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলে তো
ভালই হবে।”



Tags:

আরও পড়ুন

Advertisement