Advertisement
৩০ নভেম্বর ২০২২

চণ্ডীপুরে জ্বরের প্রকোপ, মৃত্যু দু’জনের

জ্বরের প্রকোপে চণ্ডীপুরে মৃত্যু হল দু’জনের। চণ্ডীপুরের বিভিন্ন গ্রাম ও তমলুকের জ্বরে আক্রান্ত আরও সাত জন তমলুক পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি। বৃহস্পতিবার জেলা হাসপাতালে দুই মহিলার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে চার জন মহিলা ও তিন জন পুরুষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
তমলুক শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০১:৫১
Share: Save:

জ্বরের প্রকোপে চণ্ডীপুরে মৃত্যু হল দু’জনের। চণ্ডীপুরের বিভিন্ন গ্রাম ও তমলুকের জ্বরে আক্রান্ত আরও সাত জন তমলুক পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি। বৃহস্পতিবার জেলা হাসপাতালে দুই মহিলার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে চার জন মহিলা ও তিন জন পুরুষ। বৃহস্পতিবার জেলা হাসপাতালের সুপার গোপাল দাস বলেন, “গত কয়েকদিন চণ্ডীপুর ও তমলুক এলাকার ন’জন জীবাণুঘটিত জ্বরে আক্রান্ত রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আট জন চণ্ডীপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। এঁদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।” তিনি জানান, জ্বরের লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গি বলে সন্দেহ হওয়ায় আক্রান্তদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, “চণ্ডীপুরের কিছু এলাকায় বেশ কয়েকজন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এদের কেউ ডেঙ্গি জ্বরে আক্রান্ত নয়।”

Advertisement

জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন চণ্ডীপুরের দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা কমলা জানা (৪০)। ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। কমলাদেবীর বৌমা চন্দনি জানাও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ শেফালি প্রধান (৪৫) জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় শেফালিদেবীর পরিবারের লোকেরা তাঁকে জেলা হাসপাতালে থেকে তমলুকের একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করে। বৃহস্পতিবার ভোরে নাসিংহোমে শেফালিদেবীর মৃত্যু হয়। জেলা হাসপাতালেই বুধবার দুপুর থেকে ভর্তি রয়েছেন চণ্ডীপুরের দামোদরপুর গ্রামের গৃহবধূ চন্দনি জানা।

চণ্ডীপুরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রাণা দাম বলেন, “ডেঙ্গি জ্বরে আক্রান্ত সন্দেহে চার জন ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এক জন এখানে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। তবে কারও রক্তেই ডেঙ্গির জীবাণু মেলেনি।” তিনি জানান, চণ্ডীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুঘটিত জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চণ্ডীপুর ব্লকের বৃন্দাবনপুর এলাকার চণ্ডীপুর, ইশ্বরপুর এলাকার দামোদরপুর, নন্দপুর-বরাঘুনি এলাকার বরাঘুনি, চৌখালি এলাকার বোরোজ, বাটকিচক, যাদবমিশ্রচক গ্রামে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। জ্বর নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রচার শুরু করা হয়েছে। এ নিয়ে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায় সেজন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চণ্ডীপুর এলাকার জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের জেলা হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে আসা শুরু হয়। গত কয়েকদিনে চণ্ডীপুর এলাকার মোট ৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জ্বরে আক্রান্তদের জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই জ্বরে আক্রান্ত। তাঁদের বেশিরভাগই চণ্ডীপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এখানে ভর্তি রয়েছে চণ্ডীপুরের বাটকিচক গ্রামের বৃদ্ধ শ্রীমন্ত বেরা। শ্রীমন্তবাবুর ছেলে বাপি বেরা বলেন, “দু’সপ্তাহ আগে থেকে জ্বর হয়েছে। প্রবল জ্বরের সাথে মাথার যন্ত্রণা ও শরীরে ব্যথা হয়েছে। প্রথমে চণ্ডীপুরের স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। কিন্তু অবস্থার উন্নতির আরও অবনতি হচ্ছিল। তাই মঙ্গলবার এখানে নিয়ে এসে ভর্তি করেছি।”

Advertisement

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.