Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বিকল প্রকল্প, আর্সেনিক মেশা পানীয় জলই ভরসা

নিজস্ব সংবাদদাতা
পূর্বস্থলী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৪১
এই নলকূপের জলেই জীবন চলছে দোগাছিয়ায়।—নিজস্ব চিত্র।

এই নলকূপের জলেই জীবন চলছে দোগাছিয়ায়।—নিজস্ব চিত্র।

আর্সেনিক এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল পেতে ভরসা জনসাস্থ্য কারিগরি দফতরের প্রকল্প। কিন্তু সপ্তাহ খানেক ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে সেটিও। অগত্যা আর্সেনিক মেশা নলকূপের জলই ভরসা পূর্বস্থলী ১ ব্লকের দোগাছিয়া পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের।

দু’দশক আগে পূর্বস্থলী ১ ব্লকের দোগাছিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় প্রথম ধরা পড়ে যে ওখানকার পানীয় জলে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। স্থানীয় মাদ্রা গ্রামে একই পরিবারের সাত জনের মৃত্যুও হয় আর্সেনিকোসিসে। ক্রমশ বাড়তে থাকে রোগের এলাকা। বহু মানুষের মৃত্যুও হয়। রোগ ছড়িয়ে পরে পূর্বস্থলী ২ ব্লকেও। এখনও দুটি ব্লকের বেশির ভাগ পঞ্চায়েত এলাকার মাটির তলার জলে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক।

দোগাছিয়া পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার মানুষকে বিশুদ্ধ পানীয় জল পরিষেবা দিতে কয়েকটি জনস্বাস্থ্য কারিগগরি দফতরের প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দোগাছিয়া বাজার এলাকার প্রকল্পটি। ২০১০ সালে এলাকার রায়চৌধুরী পরিবারের দান করা জমিতে প্রকল্পটি গড়ে ওঠে। দোগাছিয়া পঞ্চায়েত এলাকার তিনটি সংসদ ছাড়াও মোদ্দাফর, রায়পুর, নওদাপাড়া-সহ ৬টি এলাকার মানুষ পরিষেবা পান ওই প্রকল্প থেকে। হাজার দশেক মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য তৈরি হয় প্রকল্পের দুটি ইউনিট। একটি বসে দোগাছিয়া বাজারে, আর অন্যটি বসে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে। নিয়ম অনুযায়ী পালা করে দুটি ইউনিট চালানো হয়। যে কোন ইউনিট থেকে জল পৌঁছয় প্রকল্পের জলাধারে। তারপরে ৪০ হাজার গ্যালনের জলাধার থেকে জল যায় বিভিন্ন এলাকায়। বাসিন্দারা রাস্তার পাশের স্ট্যান্ড এবং বাড়ির কল থেকে সংগ্রহ করেন পানীয় জল। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এই জলপ্রকল্প হওয়ার পরে আর্সেনিকের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। পঞ্চায়েতের তরফেও জল পরীক্ষা করে কিছু নলকূপ সিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে নিযেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বেশ কিছু নলকূপের জল বাসন মাজা এবং গবাদি পশুর পানীয় হিসাবে ব্যবহার হয়।

Advertisement

বাসিন্দাদের অভিযোগ, গবাদি পশুর পাশাপাশি তাঁদেরও দূষিত জলই খেতে হচ্ছে। তাঁরাই জানান, দুটি ইউনিটের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছের ইউনিটরটি মোটর মাটির তলায় ছিঁড়ে পড়ায় মাস আটেক আগে সেটি বিকল হয়ে পরে। এত দিন দিনে তিন বার ঘণ্টা দুয়েক করে বাজারের ইউনিটটি থেকেই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সপ্তাহ খানেক আগে বিকল হয়ে পড়ে সেটিও। উত্তর মোদ্দাফর এলাকার অরূপ চট্টোপাধ্যায়, সোনাকুরির সামসুল শেখ এবং নওদাপাড়ার মন্টু ঘোষেরা জানান, বেঁচে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে দূষিত জলই পান করছেন তাঁরা।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার তৃণমূল নেতা প্রণবকান্তি রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘আট মাস আগে প্রথম ইউনিটটি খারাপ হওয়ার পরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরকে জানানো হয়েছিল। দ্বিতীয় ইউনিট খারাপ হওয়ার কথাও পঞ্চায়েত জানিয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল না পেয়ে বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষ মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক মিশে থাকা জল পান করছেন। জানি না আর কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে।’’ পঞ্চায়েত প্রধান অশোক দাস জানান, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের কর্তাদের তরফে দ্রুত প্রকল্পটি চালু করার আশ্বাস মিলেছে।



Tags:

আরও পড়ুন

Advertisement