Advertisement
২৭ মার্চ ২০২৩
বাঁকুড়া মেডিক্যাল

হামলার জের, জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি

হামলার অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগে এক জনকে পুলিশ ধরেওছে। তবু বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি! এবং কর্মবিরতি সেই নিরাপত্তার দাবিতেই। সোমবার রাতে এক জুনিয়র ডাক্তারের উপরে হামলা হয়েছে, এই অভিযোগে মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন হাউসস্টাফ ও ইনর্টানরা। হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানো-সহ কয়েক দফা দাবি তোলেন তাঁরা। জুনিয়র ডাক্তারদের এই কর্মবিরতিতে অবশ্য রোগীদের পরিষেবা ব্যাহত হয়নি বলেই দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
বাঁকুড়া শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০২:০২
Share: Save:

হামলার অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগে এক জনকে পুলিশ ধরেওছে। তবু বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি! এবং কর্মবিরতি সেই নিরাপত্তার দাবিতেই।

Advertisement

সোমবার রাতে এক জুনিয়র ডাক্তারের উপরে হামলা হয়েছে, এই অভিযোগে মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন হাউসস্টাফ ও ইনর্টানরা। হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানো-সহ কয়েক দফা দাবি তোলেন তাঁরা। জুনিয়র ডাক্তারদের এই কর্মবিরতিতে অবশ্য রোগীদের পরিষেবা ব্যাহত হয়নি বলেই দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদিও হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী, তাঁদের আত্মীয় এবং বাঁকুড়ার বাসিন্দাদের বড় অংশেরই ক্ষোভ, ‘সামান্য’ ঘটনাতেও এখানকার জুনিয়র ডাক্তারেরা কর্মবিরতি পালন করেন। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয় এই ধরনের কর্মবিরতির জেরে।

কী হয়েছিল সোমবার সন্ধ্যায়?

হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এক রোগিণীকে ভর্তির পরে তাঁর আত্মীয়েরা ওয়ার্ডের অব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তা নিয়ে রোগীর ওই আত্মীয়দের সঙ্গে ওয়ার্ডের কর্তব্যরত এক জুনিয়র ডাক্তারের মধ্যে বচসা বাধে। ওই চিকিৎসক অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে মারধরের চেষ্টা পর্যন্ত হয়। অন্য জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের মধ্যে এক জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ধৃত উত্তম মণ্ডলের বাড়ি বাঁকুড়া সদর থানার শ্যামডাঙা এলাকায়।

Advertisement

এই হামলারই প্রতিবাদে এ দিনের কর্মবিরতি। বাঁকুড়া মেডিক্যালে অবশ্য এই ধরনের কর্মবিরতির ‘সংস্কৃতি’ নতুন নয়। বহু ক্ষেত্রে জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধেও রোগীর পরিবারের লোকেদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। যদিও অধিকাংশ ঘটনার পরেই নিরাপত্তা বাড়ানো ও চিকিৎসার পরিকাঠামোর অভাব তুলে জুনিয়র ডাক্তাররাই কর্মবিরতি শুরু করেন। নিয়ম করে কর্তৃপক্ষও আশ্বাস দেন। দু’পক্ষের দাবিদাওয়া নিয়ে বৈঠকে টানাপড়েন চলার পরে কাজে ফেরেন জুনিয়র ডাক্তাররা। পরিকাঠামোর অভাবই হোক বা নিরাপত্তা বাড়ানো তাঁদের দাবিগুলি যে বাস্তবে পূরণ হয়নি, সোমবার সন্ধ্যার ঘটনা ফের তা সামনে এনে দিয়েছে। এতেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে। কিন্তু এ সবের মধ্যে ক’দিন ধরে রোগীরা দুর্ভোগের শিকার হন।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, শ্যামডাঙার বাসিন্দা রীনা মণ্ডল সোমবার বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন। প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে যান তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ওই ইউনিটের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র না চলা নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁর আত্মীয়েরা। ওই ঘটনার পরেই হাসপাতালে নিরাপত্তার অভাব ও বেশ কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হন ইনর্টান ও হাউসস্টাফেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবিদাওয়া না মানলে কর্মবিরতির ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তাঁরা।

এ দিন সকাল থেকেই বাঁকুড়া মেডিক্যালের প্রায় ১০০ জন হাউসস্টাফ ও ইনর্টান কাজে যোগ দেননি। মেডিক্যাল চত্বরেই তাঁরা অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন। যদিও এই কর্মবিরতির জের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপরে পড়েনি বলেই জানাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ দিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল ওয়ার্ডগুলিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি-রা (পিজিটি) রোগীদের দেখভাল করছেন। অন্য চিকিৎসকরাও রাউন্ড দিয়ে রোগী দেখছেন। হাসপাতাল সুপার পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, “পিজিটি-রা কাজ করছেন। তাই সমস্যা এড়ানো গিয়েছে। রোগীদের পরিষেবায় কোনও ব্যাঘাত ঘটছে না। তবে জুনিয়ার ডাক্তাররা আন্দোলন দীর্ঘায়িত করলে সমস্যা তৈরি হবে।” হাসপাতাল চত্বরে কিছু রোগীর আত্মীয়ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই আন্দোলন চললে, পরিষেবা ব্যাহত হবে।

আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে অশোক মহানালবিশ, কিংশুক রায়, সৌরভ হালদাররা অভিযোগ করেন, “এই হাসপাতালে আগেও জুনিয়র ডাক্তারদের উপরে হামলা হয়েছে। তখনও কড়া নিরাপত্তার দাবি তুলেছি। কিন্তু বাস্তবে তা মেলেনি।” তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তা রক্ষীর সামনেই জুনিয়র ডাক্তারের উপরে হামলা চালায় রোগীর আত্মীয়রা। কিন্তু রক্ষী নড়াচড়া করেনি। নার্সেরা এগিয়ে গিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করেন। তাঁদের আরও ক্ষোভ, বার্ন ইউনিটের ওই এসি মেশিন না চলায় প্রায়ই রোগীর আত্মীয়েরা বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। হাসপাতালে কিছু জরুরি ওষুধও মজুত থাকে না। এই সমস্ত পরিকাঠামোগত সমস্যার জন্য আখেরে ডাক্তারদেরই রোগীর আত্মীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।

তাঁদের দাবি, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। হাসপাতাল সুপার অবশ্য জানাচ্ছেন, কর্মবিরতি তুলতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে। হামলার সময় নিরাপত্তা রক্ষীর ভূমিকা কী ছিল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “পরিকাঠামোগত সমস্যা তো হাসপাতালে রয়েছেই। এ নিয়ে আমরা স্বাস্থ্য ভবনকে জানিয়েছি। বিগত দিনে কয়েকটি ঝুট ঝামেলার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা কড়াকড়ি করা হয়েছে। তবে আন্দোলনে বসা জুনিয়র ডাক্তাররা ঠিক কী রকম নিরাপত্তা চাইছেন, তা নিয়ে আলোচনা করছি।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.