Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

চিকিৎসকের অভাব নিয়ে বৈঠকে গৌতম

নিজস্ব সংবাদদাতা
শিলিগুড়ি ১৪ অগস্ট ২০১৪ ০২:৫২

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৯ জন চিকিৎসককে একযোগে হাসপাতাল থেকে বদলি করা হয়েছে। পরিবর্তে অন্য জায়গা থেকে কোনও চিকিৎসক এ দিন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে আসেনি। তার মধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের একাংশের উপস্থিতি অনিয়মিত হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব বুধবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হাসপাতালের সুপার, অধ্যক্ষদের নিয়ে বৈঠক করেন।

গৌতমবাবু জানান, চিকিৎসকদের একাংশ কাজের সময় থাকেন না বা দীর্ঘদিন না এলেও বেতন পাচ্ছেন বলে কিছু অভিযোগ পেয়েছেন। তা নিয়ে এ দিন বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সমস্ত বিভাগের প্রধানদের কাছ থেকে চিকিৎসকদের ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে স্টেটাস রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তা পেলে সেই মতো অভিযুক্ত চিকিৎসকদের শো-কজ করা হবে। কোনও বিভাগের প্রধানরা অনিয়মে যুক্ত থাকলে তা দেখতে তিন জনের একটি কমিটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা প্রধানদের অনিয়মের বিষয়টি, স্টেটাস রিপোর্ট ঠিক মতো রয়েছে কি না খতিয়ে দেখবেন। যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ না করে বেতন নিচ্ছেন তাঁদের ওই অর্থ ফেরত দিতে হবে।” তা ছাড়া ওটি জীবাণু মুক্ত করতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে অন্তত ১০টি যন্ত্র কেনা হয়েছিল। এক মাস ব্যবহারের পর থেকে সেগুলি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। পছন্দের কোম্পানিকে টাকা পাইয়ে দিতে এগুলি কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।

অভিযোগ, মেডিসিন, শল্য, রেডিওলজি, কার্ডিওলজি, অ্যানেস্থেসিওলজি, চেস্ট, ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের একাংশ হাসপাতালের কাজে অনিয়ম করছেন। কাজের সময় হাসপাতালে তাঁদের দেখা যায় না। শল্য বিভাগের তরুণ পাল, ডি আর নাকিপুরিয়া, কার্ডিওলজি বিভাগে সৌরাংশু চট্টোপাধ্যায়ের মতো আরও বেশ কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠছে বলে বৈঠকে আলোচনাও হয়। ডি আর নাকিপুরিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বাড়িতে আত্মীয় বিয়োগ হওয়ায় তিনি এ দিন হাসপাতালে যাননি। শল্য বিভাগের চিকিৎসক তরুণবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কোচবিহারে একটি নার্সিংহোমে যুক্ত রয়েছেন। বেশিরভাগ দিন সেখানেই থাকেন। সপ্তাহে এক দুই দিন থাকেন মেডিক্যাল কলেজে। যদিও তরুণবাবু অভিযোগ মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনও নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত নই।” সৌরাংশুবাবু বলেন, “দুপুরের খাবারের যে সময় মেলে সে সময়টাকে আমি কাজে লাগাই। তবে তাতে হাসপাতালের সমস্যা হলে এ বার থেকে নিশ্চয়ই বেশি সময় দেব। বেসরকারি যে সব জায়গায় রোগী দেখি হাসপাতালের কাজের সময়ের পর সেগুলি ঠিক করে নেব।”

Advertisement

এ দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত ধনমালা দেবীর পরিবারের অভিযোগ, বালুরঘাটে মেয়ে লক্ষ্মীদেবীর বাড়িতে থাকার সময় পেটের অসুখে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। এক সপ্তাহ সেখানে চিকিৎসার পর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত রবিবার ভর্তি করানো হয়। সেই থেকে শরীরে জ্বর, খিঁচুনি হচ্ছে। সোমবার পরীক্ষার জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হলেও সেই রিপোর্ট এখনও মেলেনি। হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে এ দিন অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের লোকেরা। তাঁর ছেলে পাণ্ডব সূত্রধর বলেন, “মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকরাই রোগীকে দেখছেন। সিনিয়র চিকিৎসকরা তো দেখেনই না। নার্স, আয়াদেরও ব্যবহার ভাল নয়। মাকে ভর্তি করিয়ে বুঝতে পারলাম চিকিৎসা পরিষেবা কেমন বেহাল দশা।”

আরও পড়ুন

Advertisement